রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ , ৬ জুমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

দেশ

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল ব্যাহত, যানবাহনের দীর্ঘ সারি

রাজবাড়ী প্রতিনিধি ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৭:১৮:১৬

153
  • ছবি : নিউজজি

রাজবাড়ী: দেশের অন্যতম ব্যস্ত নৌরুট দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে ফেরি চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে নদীর দুই পাড়েই শত শত যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থেকে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক ও পণ্যবাহী গাড়ির চালকরা।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে সরেজমিনে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, জিরো পয়েন্ট থেকে ক্যানালঘাট পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটারজুড়ে ২ সারিতে ৫ শতাধিক যানবাহন নদী পারাপারের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। এর মধ্যে রয়েছে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন চালক-সহকারী ও যাত্রীরা। অনেকে রোদে দাঁড়িয়ে, গাড়ির ভেতরে বসে ব্যাপসা গরমে মানবেতর সময় পার করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পদ্মা নদীতে গত কয়েকদিন ধরে তীব্র স্রোত বিরাজ করছে। এর ফলে ফেরি চলাচলে স্বাভাবিকের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি সময় লাগছে। পাশাপাশি তীব্র শ্রোতে অনেক ফেরিই ঘাটে ভীড়তে স্বক্ষম না হওয়ায় কিছু পকেট অচল হয়ে পড়ায় ফেরির সংখ্যা কমিয়ে সীমিত আকারে পারাপার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে করে যানজট পরিস্থিতি আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।

ঘাটে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের ভোগান্তির চিত্র ছিল চোখে পড়ার মতো। বাস যাত্রী জাহাঙ্গীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ফেরিঘাটে আসার পর থেকে এক ঘণ্টার বেশি সময় পার হয়ে গেছে, কিন্তু এখনও ফেরিতে উঠতে পারিনি। যাত্রীসেবা বলতে যে কিছু আছে সেটা মনে হচ্ছে না। সাথে পরিবার নিয়ে রোদে ও প্রচন্ড গরমের মধ্যে থাকতে হচ্ছে, যা খুবই কষ্টকর।

পণ্যবাহী যানবাহনের চালকদের দুর্ভোগ আরও বেশি। কুষ্টিয়া থেকে আসা একটি ট্রাকের চালক ফয়সাল বলেন, আমাদের ট্রাকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য রয়েছে। দীর্ঘ সময় ঘাটে আটকে থাকলে অনেক পণ্য নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।

একই ধরনের অভিযোগ করেন যশোর থেকে আসা আরেক ট্রাকচালক মফিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা এখানে পড়ে থাকতে হচ্ছে। খাওয়ার কোনো ভালো ব্যবস্থা নেই, ঘুমানোর জায়গাও নেই। এভাবে আর কতক্ষণ চলবে বুঝতে পারছি না।

এদিকে, ফেরিঘাটে শৃঙ্খলা রক্ষা ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতা থাকলেও পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হচ্ছে না। এ সময় একাধিক চালক অভিযোগ করে বলেন, পুরোনো ও জরাজীর্ণ ফেরিগুলোর কারণে পারাপার প্রক্রিয়া ধীরগতির হচ্ছে, যা এই সংকটকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জানান, বর্তমানে বহরে মোট ১৭টি ফেরি থাকলেও সবগুলো সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে ফেরিগুলো স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি সময় নিয়ে পারাপার করছে। এতে ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে পর্যায়ক্রমে ৭টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। বাকি ফেরিগুলো নিরাপদ স্থানে রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফেরির সংখ্যা বাড়ানো হবে এবং যানবাহনের চাপ কমে আসবে। তবে আপাতত যাত্রী ও চালকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে, নদীর তীব্র স্রোত অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতেও এই ভোগান্তি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

 

নিউজজি/এসএম

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
 নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers