রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ , ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

দেশ

কর্ণফুলীর ভাঙনে বিলীনের পথে চন্দ্রঘোনা, আতঙ্কে হাজারো পরিবার

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি ৮ আগস্ট, ২০২৬, ১৪:৪০:০৩

142
  • ছবি : নিউজজি

চট্টগ্রাম: রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ১১নং চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়নের ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে কর্ণফুলী নদীর ভাঙন। টানা বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও নদীর তীব্র স্রোতে জেলে পাড়া, ফকির পাড়া, মোল্লাহ পাড়া, খোন্দকার পাড়া ও হাজী পাড়ার মানুষ চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। প্রতিদিনই নদীর পাড় ভেঙে বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, তারা অধিকাংশই দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ। অনেকের নিজেদের কোনো জমি-জমা নেই। বসতভিটাটুকুই তাদের শেষ আশ্রয়। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ঐতিহ্যবাহী এসব পাড়া নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

জেলে পাড়ার মাখন জল দাশ বলেন, আমরা দিনে এনে দিনে খাই। নিজেদের কোনো জমি নেই। নদী এভাবে ভাঙতে থাকলে আমাদের শেষ আশ্রয়টুকুও থাকবে না। মাননীয় সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীর কাছে আমাদের আকুল আবেদন, দ্রুত নদীভাঙন রোধে ব্যবস্থা নিন।

মোল্লাহ পাড়ার মোর্শেদ বলেন, নদীভাঙন যেভাবে বাড়ছে, তাতে আমাদের ঘরবাড়ি ও বসতভিটা নিয়ে আমরা খুবই আতঙ্কের মধ্যে আছি। আমরা গরিব মানুষ, অন্য জায়গায় গিয়ে বসবাস করার সামর্থ্য আমাদের নেই। দ্রুত নদীর পাড়ে পাথর ও কংক্রিটের সিসি ব্লক (CC Block) বসিয়ে ভাঙন রোধ করতে হবে। মাননীয় সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের জোর দাবি, সময় থাকতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

জাহির মেম্বার, শাহ আলম, সাইফুল, রুকসানা ও আবু নাসের বলেন, নদীর পাড় রক্ষায় দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তাদের দাবি, ভাঙনপ্রবণ এলাকায় পাথর ও কংক্রিটের সিসি ব্লক (ঈঈ ইষড়পশ) বসিয়ে নদীর তীর সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি নদীশাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।

চন্দ্রঘোনা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ এম আনোয়ারুল হক বাবুল বলেন, নদীভাঙনে দরিদ্র ও ভূমিহীন পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। আমরা আশা করি, মাননীয় সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী দ্রুত বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। চন্দ্রঘোনার হাজারো মানুষ এখন তার দিকে তাকিয়ে আছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত সরকারের আমলে নদীভাঙন রোধে কিছু কাজ হলেও অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সেগুলো টেকসই হয়নি। এবার তারা সাময়িক ব্যবস্থা নয়, পাথর, সিসি ব্লকসহ স্থায়ী নদীতীর সংরক্ষণ ব্যবস্থা চান।

এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হাসান বলেন, কর্ণফুলী নদীর ভাঙনের বিষয়টি আমরা অবগত আছি। এটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন কাজ। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে আমরা ইতোমধ্যে চিঠি দিয়েছি। সরকারের বাজেট প্রণয়ন ও বরাদ্দ পাওয়া গেলে আশা করছি, প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করে নদীভাঙন প্রতিরোধে কাজ করা সম্ভব হবে।

এলাকাবাসীর দাবি, বাজেট ও বরাদ্দের অপেক্ষায় না থেকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে দ্রুত জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। পাথর ও সিসি ব্লক দিয়ে নদীর পাড় সংরক্ষণসহ স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সংসদ সদস্য, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

 

নিউজজি/এসএম

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers