বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ , ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

দেশ

‘ইতিহাসের নিকৃষ্টতম ও ঘৃণ্য ফ্যাসিস্ট হাসিনা’

নিউজজি ডেস্ক ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১৬:৪২:০৭

86
  • ‘ইতিহাসের নিকৃষ্টতম ও ঘৃণ্য ফ্যাসিস্ট হাসিনা’

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, পৃথিবীর নিষ্ঠুর ফ্যাসিস্ট ও নাৎসিরা জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকত। কিন্তু শেখ হাসিনার সাথে তাদের পার্থক্য কী? হিটলার বা মুসোলিনী শেখ হাসিনার মতো টাকা পাচার করেনি, ব্যাংকের টাকা লুট করেনি, শেয়ারবাজার লুণ্ঠন করেনি, কিংবা সরকারি জমি দখল করেনি। এটাই হলো পার্থক্য।  

বুধবার (৫ আগস্ট) গুলশানে জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে ১৭ বছরের আন্দোলনচিত্র প্রদর্শনী শেষে এ মন্তব্য করেন তিনি।

রিজভী জানান, নাৎসি হিটলার ও মুসোলিনির মতো ফ্যাসিস্টরা এথনিক ক্লিনসিং বা জাতিগত নিপীড়ন চালিয়ে লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করেছে। কিন্তু তারা নিজের জাতিকে পৃথিবীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও শক্তিশালী করার চেষ্টাও করেছে। সারা পৃথিবীতে তারাই শক্তিশালী-এটা বলতে চেয়েছে। ওরা ছিল ভয়ংকর খুনি ও ফ্যাসিস্ট। কিন্তু ওদের মধ্যে নিজ দেশের প্রতি প্রেম ছিল। অথচ শেখ হাসিনার মনে নিজ দেশের প্রতি ভালোবাসা তো দূরের কথা, গোটা জাতিকে লুণ্ঠন করে নিজের আত্মীয়স্বজনকে বিদেশে সুপ্রতিষ্ঠিত করাই ছিল মূল এজেন্ডা। এই এজেন্ডা থেকে তিনি সরে আসেননি। তাই তিনি ছিলেন ইতিহাসের নিকৃষ্টতম ও ঘৃণ্য ফ্যাসিস্ট।

রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে এক বিশেষ চোরাপথে ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটে উল্লেখ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, সেভাবেই এই দেশে এক নির্মম ও নিষ্ঠুর ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটেছিল-আওয়ামী ফ্যাসিবাদ। এরা সবসময় মানুষকে প্রলোভনমূলক কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে, সেই ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার জন্য জনগণের রক্তগঙ্গা বইয়ে দিতে দ্বিধা করেনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ছোড়া গুলিতে কোলের শিশু পর্যন্ত নিহত হয়েছে। রেস্টুরেন্টের বাবুর্চি, ফলের দোকানের কর্মচারী এবং সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে। ছাত্র-জনতাকে নির্বিচারে হত্যার পাশাপাশি নানা শ্রেণি-পেশার মানুষকেও এই আন্দোলনে তারা হত্যা করেছে।

তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল এক বিশাল জাগরণ। এই গণঅভ্যুত্থান ছিল অত্যাচারীর বিরুদ্ধে জনগণের ভেতরের অফুরন্ত শক্তির এক পারমাণবিক বিস্ফোরণ। এই বিস্ফোরণ যে জনগণের মধ্যে সুপ্ত অবস্থায় থাকে, তা শেখ হাসিনা টের পাননি। টের পাননি বলেই অকাতরে ভুয়া ও পাতানো নির্বাচন করেছেন, ‘আমি-ডামি’র নির্বাচন করে ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছেন। বিশ্বের দু-একটি দেশ ছাড়া কেউ সেই সরকারকে সমর্থন করেনি।

শেখ হাসিনা দিল্লিতে ‘সাউথ এশিয়ান জার্নালিস্টস’দের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখবেন এমন প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, শেখ হাসিনা পলাতক, ফাঁসি ও যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও তার জন্য ভারত সরকারের এত মায়া, এত কান্না এবং এত কুম্ভীরাশ্রু ঝরছে যে তাকে ভিডিও বার্তা না হলেও অডিও বার্তা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে! এটা হচ্ছে ভারত সরকারের ডাবল স্ট্যান্ডার্ড (দ্বিমুখী নীতি)।

ভারত এমন আচরণ করছে যেন অন্য দেশের পলাতক ও দাগি আসামি যদি ‘ভারতপ্রেমিক’হয়, তবে তার সাত খুন মাফ! ভারতের এমন আচরণে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান রিজভী।

গণতন্ত্রের লড়াই, কথা বলার স্বাধীনতার লড়াই, সংবাদপত্রের স্বাধীনতার লড়াই এবং বিচারবিভাগের স্বাধীনতাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার যে চূড়ান্ত গণতান্ত্রিক প্রত্যয়-সেই প্রত্যয় বাস্তবায়নে সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ যেভাবে লড়াই করেছেন, সেই লড়াইয়ে আবারো শামিল হতে তারা দ্বিধা করবেন না বলে মন্তব্য করেন বিএনপির সিনিয়র মহাসচিব।

নিউজজি/এসএম/নাসি  

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers