বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ , ৭ সফর ১৪৪৮

দেশ

প্রধানমন্ত্রীর কাজে সন্তুষ্ট ৭৫.৩ শতাংশ মানুষ

নিউজজি ডেস্ক ৮ জুলাই, ২০২৬, ১৪:২৫:৪৩

71
  • সংগৃহীত

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের কার্যক্রমে সন্তুষ্ট দেশের ৭৫ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ। দেশব্যাপী পরিচালিত এক জনমত জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। জরিপে অংশ নেওয়া ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা প্রধানমন্ত্রীর কাজের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আর ৭ দশমিক ২ শতাংশ কোনো মতামত দেননি।

‘দ্য ডেল্টাগ্রাম’ নামের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ১২ থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত দেশজুড়ে ৩ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের ওপর এই জরিপ পরিচালনা করে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় চার মাস পর এ জরিপের ফল প্রকাশ করা হলো।

জরিপের ফল অনুযায়ী, বিভাগভিত্তিক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি সবচেয়ে বেশি সমর্থন পাওয়া গেছে রংপুর বিভাগে। সেখানে ৮৩ দশমিক ১ শতাংশ উত্তরদাতা তাঁর কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। সবচেয়ে কম সমর্থন পাওয়া গেছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে অনুমোদনের হার ৭০ দশমিক ৪ শতাংশ।

শহর ও গ্রামের ফলাফলেও পার্থক্য দেখা গেছে। গ্রামীণ এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সমর্থনের হার ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ, যেখানে শহরাঞ্চলে এ হার ৭০ দশমিক ১ শতাংশ। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রায় সব বয়সী মানুষের মধ্যেই সমর্থনের হার কাছাকাছি থাকলেও ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে এটি কিছুটা কম, ৭০ দশমিক ৯ শতাংশ।

জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন সরকারের প্রতি জনগণের ইতিবাচক মনোভাবের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে এই ফলাফলে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের মাধ্যমে সরকার গঠনের পর এটিই সরকারের প্রতি জনমতের অন্যতম প্রথম বড় পরিসরের মূল্যায়ন। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ঘোষণা দেয়। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসীমা নির্ধারণ, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

তবে বিভাগভিত্তিক ফলাফল ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে ডেল্টাগ্রাম। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় ফলাফলের তুলনায় বিভাগভিত্তিক নমুনা ছোট হওয়ায় সেখানে পরিসংখ্যানগত ত্রুটির সম্ভাবনা বেশি। ফলে রংপুর ও ঢাকার সমর্থনের ব্যবধান পুরোপুরি জনমতের প্রকৃত পার্থক্য নাও হতে পারে; এর একটি অংশ নমুনা নির্বাচনের স্বাভাবিক তারতম্যের কারণেও হয়ে থাকতে পারে।

জরিপে ৭০ শতাংশ সাক্ষাৎকার সরাসরি (ফেস-টু-ফেস) এবং ৩০ শতাংশ মোবাইল ফোনে নেওয়া হয়েছে। সরাসরি সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সমর্থনের হার ছিল ৭৫ দশমিক ৮ শতাংশ, আর মোবাইল ফোনে নেওয়া সাক্ষাৎকারে ছিল ৭৪ দশমিক ১ শতাংশ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পার্থক্য পরিসংখ্যানগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ নয়। তবে সরকার পরিবর্তনের পরপরই সরাসরি সাক্ষাৎকারে অংশগ্রহণকারীরা সামাজিক বা রাজনৈতিক কারণে কিছুটা সংযত উত্তর দিতে পারেন—এ বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

যেভাবে পরিচালিত হয়েছে জরিপ

ডেল্টাগ্রাম জানিয়েছে, জরিপের পরিকল্পনা, অর্থায়ন, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন এবং মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ—সবই তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সম্পন্ন হয়েছে। এ কাজে বাইরের কোনো জরিপ প্রতিষ্ঠান যুক্ত ছিল না।

দেশের আট বিভাগের ১৫০টি প্রাথমিক নমুনা ইউনিট থেকে জনসংখ্যার অনুপাতে উত্তরদাতা নির্বাচন করা হয়। প্রতিটি ইউনিটে ২০টি করে সাক্ষাৎকার নিয়ে মোট ৩ হাজার মানুষের মতামত সংগ্রহ করা হয়েছে।

জরিপে অংশগ্রহণের হার আন্তর্জাতিক সংস্থা AAPOR–এর RR3 মানদণ্ড অনুযায়ী ৭৫ দশমিক ৭ শতাংশ। পরে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জনমিতিক তথ্যের ভিত্তিতে ফলাফলে পরিসংখ্যানগত সমন্বয় (ওয়েটিং) করা হয়। সমন্বয়ের আগে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সমর্থনের হার ছিল ৭৪ দশমিক ১ শতাংশ, যা সমন্বয়ের পর বেড়ে ৭৫ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছায়।

জরিপের জাতীয় পর্যায়ের সম্ভাব্য নমুনাগত ত্রুটির সীমা (Margin of Error) ৯৫ শতাংশ নির্ভরযোগ্যতায় প্রায় ±২ দশমিক ১ থেকে ±২ দশমিক ৪ শতাংশ। তবে বিভাগভিত্তিক ফলাফলের ক্ষেত্রে ত্রুটির সীমা তুলনামূলক বেশি, যা ঢাকা বিভাগে প্রায় ±৪ শতাংশ এবং ছোট বিভাগগুলোতে প্রায় ±৯ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিউজজি/এসডি

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers