মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ , ২৫ জিলকদ ১৪৪৭

দেশ

বাজারে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে সকল নিত্যপণ্যের দাম

নিউজজি প্রতিবেদক ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৫০:৫৭

23
  • সংগৃহীত

ঢাকা: দেশের বাজারে মুরগি, ভোজ্যতেল, চিনি, সবজিসহ বেশ কিছু নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। এছাড়াও এখন ৮০ টাকার নিচে পেঁপে-গাজর ছাড়া তেমন কোনো সবজিও নেই।এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। বাধ্য হয়ে অনেক ক্রেতা প্রয়োজনের তুলনায় কম পণ্য কিনছেন, আবার কেউ কেউ তুলনামূলক কম দামি পণ্যে ঝুঁকছেন।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ঢাকার কয়েকটি খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে বিভিন্ন ধরনের সবজির দামও চড়া। সাধারণত সীমিত আয়ের মানুষেরা খরচ পোষাতে এসব মাছ, মুরগি ও সবজি বেশি কেনেন। কিন্তু এসব নিত্যসামগ্রীর দাম ঊর্ধ্বমুখী হলেও মানুষের আয় সেভাবে বাড়েনি। ফলে খরচ বাঁচাতে নানা জায়গায় কাটছাঁট করছেন তারা।

এদিকে গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে বাজারে বেড়ে গেছে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম। বেশিরভাগ সবজিই এখন ৮০ টাকা বা তার কাছাকাছি দামে বিক্রি হচ্ছে। শুধু আলুর কেজি ২৫ আর পেঁপে-গাজর বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে। বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, বরবটি প্রতি কেজি ১০০ টাকা, ঝিঙ্গা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, পেঁপে প্রতি কেজি ৬০ টাকা, শিম ও সজিনা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ঝিঙ্গা, বরবটি, করলা, চিচিঙ্গা প্রতি কেজি ১০০ টাকা ১২০ টাকা, মুলা প্রতি কেজি ৫০ টাকা, শসা প্রতি কেজি ৬০ টাকা, পটল প্রতি কেজি ১০০ টাকা, কলা প্রতি হালি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া টমেটো প্রতি কেজি ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৫০ টাকা, বাঁধা কপি প্রতি পিস ৪০ টাকা, ফুলকপি প্রতি পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কচুর লতি প্রতি কেজি ৮০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অপরদিকে বাজারে  ব্রয়লার মুরগির দাম স্থিতিশীল থাকলেও ঈদের পর থেকে রেকর্ড সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে সোনালি মুরগি। তবে গত সপ্তাহের চেয়ে এই সপ্তাহে দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। প্রতি কেজি সোনালি মুরগি এখন বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪২০ টাকা কেজি দরে। যা কদিন আগেও ৪৫০ টাকায় উঠেছিল। এছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে ২২০ টাকায় উঠে যাওয়া ব্রয়লার মুরগি এখন বিক্রি হচ্ছে ১৮৫ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে।

খামারিরা বলছেন, খামারে খামারে বার্ড ফ্লুসহ নানান রোগে ব্যাপক হারে মুরগি মারে যাচ্ছে। যে কারণে সরবরাহ কমে গেছে এবং দামও বেড়েছে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে সোনালি মুরগির চাহিদাও অনেক কমে গেছে।

অন্যদিকে মাছের বাজারে আকারভেদে প্রতি কেজি তেলাপিয়া, কই ও পাঙাশ মাছ ২২০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি আকারের চাষের চিংড়ির কেজি ৮০০ টাকা। আর চাষের শিং, পাবদা ও পোয়া মাছ বিক্রি হয়েছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে। আর ৩৫০ টাকার নিচে রুই মাছ কেনা যায় না।

এদিকে বোতলজাত সয়াবিনের সংকটের মধ্যে খোলা সয়াবিন তেলের দামও লিটারে প্রায় ১০ টাকা বেড়েছে। অন্যদিকে খুচরা পর্যায়ে এক কেজি খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১০৫ টাকায়, যা দুই সপ্তাহ আগেও কেজিতে ৫ টাকা কম ছিল।

দোকানগুলোতে ৫ লিটারের সয়াবিন তেলের বোতল মিললেও সরবরাহ কম। আধা লিটার, এক ও দুই লিটারের বোতল বেশিরভাগ দোকানেই পাওয়া যাচ্ছে না। আবার কিছু দোকানে খোলা সয়াবিন তেল মিললেও তা বিক্রি হচ্ছে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশিতে।

এখন সরকার নির্ধারিত এক লিটার বোতলজাত তেলের দাম ১৯৫ টাকা। অন্যদিকে, খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৭৬ টাকা ও পাম তেলের নির্ধারিত দাম ১৬৪ টাকা। তবে বাজারে খোলা সয়াবিন ২০০ থেকে ২১০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। আর পাম বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায়।

খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ডিলাররা তেলের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছেন। এ অবস্থা মাসখানেকের বেশি সময় ধরে চললেও গত তিন-চারদিন ধরে একেবারে অর্ডার নেওয়াই বন্ধ করে দিয়েছেন।

অন্যদিকে, বাজারে বেড়েছে ডিমের দাম। ফার্মের মুরগির প্রতি ডজন ডিম ১১৫ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ১১০ টাকার মধ্যে। পাড়া-মহল্লার কিছু কিছু খুচরা দোকানে ডিম ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা ডজনে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

নিউজজি/এসডি

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers