বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ , ২৪ জিলহজ ১৪৪৭

দেশ

তানোরে সারের কৃত্রিম সংকট-সিন্ডিকেটে বিপর্যস্ত আলু চাষ

রাজশাহী প্রতিনিধি: ২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ২০:১৮:৫৫

172
  • তানোরে সারের কৃত্রিম সংকট-সিন্ডিকেটে বিপর্যস্ত আলু চাষ

রাজশাহী: রাজশাহীর তানোরে আলু মৌসুমকে কেন্দ্র করে নন-ইউরিয়া সার—এমওপি, টিএসপি ও ডিএপি নিয়ে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

সার ডিলারদের সিন্ডিকেট, অতিরিক্ত দামে বিক্রি, ক্রয় রশিদ না দেয়া এবং বাইরে থেকে চোরা পথে আনা সারের দৌরাত্ম্যে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ কৃষক।

কৃষকদের অভিযোগ—টিএসপি ১৩৫০ টাকার বস্তা ১৮০০-১৯৫০ টাকায়, ডিএপি ১০৫০ টাকার বস্তা ১৪৫০-১৬০০ টাকায় এবং এমওপি ১০৫০ টাকার সার ১১৫০-১৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরকারি দামে সার প্রায় মেলেই না; তবে বাড়তি দাম দেওয়া হলে তাৎক্ষণিক পাওয়া যায়। কিন্তু এতে কোনও রশিদ দেওয়া হয় না, ফলে সারের আসল-নকল বা ভেজাল নিয়ে শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

কৃষকেরা অভিযোগ করেন, তানোরের বেশিরভাগ সার ডিলার বহিরাগত ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী। তারা সার সংকট দেখিয়ে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করছে। স্থানীয়দের মতে, কৃষি বিভাগ মনিটরিং জোরদার করলে এই সিন্ডিকেট ভেঙে যেত, কিন্তু তাদের ‘গা–ছাড়া’ভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।

এবার লোকসান পুষিয়ে নিতে মাঠে নামতে আগ্রহী কৃষকেরা সার না পেয়ে হতাশ। তানোর পৌর এলাকার কৃষক আব্দুল মালেক ও তালন্দ এলাকার ইমরুল হক অভিযোগ করেন-সার না পেয়ে দিনের পর দিন কৃষি অফিসে ধর্ণা দিয়েও কোনো প্রতিকার মিলছে না।

গোল্লাপাড়া বাজারের কৃষক তরিকুল বলেন, “প্রতি বছর একই অবস্থা-চাহিদা নেই ডিলারের দোকানে; অথচ বেশি দাম দিলেই সার পাওয়া যায়।”

কৃষকদের দাবি—প্রতিদিন মান্দা, মোহনপুর, নাচোল, নিয়ামতপুর, গোদাগাড়ী, নওগাঁ সদর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থেকে শত শত বস্তা সার চোরাই পথে তানোরে ঢুকছে। এ সব সার ব্যবসায়ীরা বাড়তি দামে বিক্রি করছেন।

কৃষি অফিসের এক কর্মকর্তা স্বীকার করেন-বাইরের সার ঢুকছে, বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে; তবে অভিযান চালালে আলু চাষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি আরও বলেন, “সারা বছরের বরাদ্দ দিয়েও আলু মৌসুমের চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়।”

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে-এবার আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ হাজার ১৯০ হেক্টর। ডিসেম্বর মাসে সার বরাদ্দ: টিএসপি: ২৯০ মেট্রিক টন, ডিএপি: ১০৯০ মেট্রিক টন, এমওপি: ৭০০ মেট্রিক টন, ইউরিয়া: ১৪৫৯ মেট্রিক টন।

অতিরিক্ত কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সুভাষ কুমার মণ্ডল বলেন, “বরাদ্দ সীমিত। কৃষকরা জৈব সার ব্যবহার না করে অতিরিক্ত রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভর করায় চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।”

সরকারি মনিটরিং জোরদার করা, ন্যায্য দামে সার সরবরাহ ও সিন্ডিকেটবিরোধী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন আলু চাষিরা।

নিউজজি/নাসি

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers