সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১ , ৮ মুহররম ১৪৪৬

দেশ

লক্ষ্মীপুরে পশুরহাটে ক্রেতা-বিক্রেতা ভীড়, বেচাবিক্রি কম

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি ১৩ জুন, ২০২৪, ১২:৫১:৪৮

76
  • ছবি: সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুর: ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুরে স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুরহাটগুলো জমতে শুরু করেছে। হাটে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি ক্রেতাদের ভীড় থাকলেও বেচাবিক্রি কম। ব্যবসায়ীদের দাবি ক্রেতা এসে দামাদামি করে চলে যায়। ঈদ পর্যন্ত পশু লালন পালনে সমস্যায় পড়ার শঙ্কায় এমনটি ঘটছে। একই তথ্য জানিয়েছে গরু কিনতে আসা কয়েকজন ক্রেতা।

সরেজমিনে লক্ষ্মীপুর পৌর গরু বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের ভীড় দেখা যায়। এটি জেলার সবচেয়ে বড় স্থায়ী পশুর হাট। হাটে পর্যাপ্ত গরু-ছাগলসহ কোরবানির উদ্দেশ্য বিক্রি করতে আনা পশু থাকলেও বেচা বিক্রি কম হচ্ছে। এ মুহুর্তে এক ব্যবসায়ী অন্য ব্যবসায়ীর কাছ থেকে গরুসহ বিভিন্ন পশু কিনে নিচ্ছে। তবে বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) থেকে পশু বেচাবিক্রি বাড়বে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত এ হাটে গরু বেচাবিক্রি হবে বলে জানা গেছে।

জেলা প্রাণি সম্পদ কার্যালয় সূত্র জানায়, লক্ষ্মীপুরে এবার কোরবানির জন্য ৬৬ হাজার ৯১৫টি পশুর চাহিদা রয়েছে। এরমধ্যে লক্ষ্মীপুরে ৬৩ হাজার ৬৯৪টি পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। বাকি ৩ হাজার ২২১টি পশুর অন্যান্য জেলা থেকে এনে চাহিদা মেটানো হবে। জেলায় প্রস্তুতকৃত গবাদি পশুর মধ্যে ষাঁড় ২৫ হাজার ৬৩৭টি, বলদ ১৩ হাজার ৩০৪টি, গাভী ১১ হাজার ২২৯টি, মহিষ ৭৪৫টি, ছাগল ১১ হাজার ৯৬৫টি ও ভেড়া ৮১৪টি।

ক্রেতা জামাল উদ্দিন, কাউসার কাইয়ুম ও আবদুল আজিজ জানায়, তারা কোরবানির জন্য গরু কিনবেন। তবে এখনই কিনছেন না। কারণ বাড়িতে রাখতে সমস্যা হবে। এখন দাম দেখতেই হাটে এসেছেন। দুই-একদিন আগে গরু কিনবেন তারা। 

গরু ব্যবসায়ী রাসেল হোসেন বলেন, ১৫টি গরু হাটে উঠিয়েছি। কিন্তু বিক্রি হয়েছে একটি। তবে শেষ পর্যন্ত সবগুলো গরুই বিক্রি করতে পারবেন বলে আশাবাদি তিনি।

ব্যবসায়ী আবদুর রাজ্জাক বলেন, এখনো গরু কেনার লোক তেমন আসেনি। এজন্য গরু বিক্রি হচ্ছে না। তবে রোববার পর্যন্ত ২০টি গরুর সবগুলোই বিক্রি করতে পারবো।

ব্যবসায়ী জয়নাল মাহমুদ বলেন, ক্রেতারা আসলেও গরু কিনছে না। ৩৮টি গরুর মধ্যে ১টি বিক্রি করেছি। খাদ্যের দাম বেশি থাকায় এবার খামারিরা ও ব্যবসায়ীরা বেশি লাভবান হবে না।

জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা কুমুদ রঞ্জন মিত্র বলেন, লক্ষ্মীপুরে কোরবানির জন্য পর্যাপ্ত গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে। চাহিদার তুলনায় অল্প কিছু কম আছে। অন্যান্য জেলা থেকেও পশু আসছে। এ জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা পূরণ হয়ে যাবে।

লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ তারেক বিন রশিদ বলেন, পশুর হাটগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। ইজারাদারদেরকে স্বেচ্ছাসেবী রাখার জন্য বলা হয়েছে। জাল টাকা সনাক্তের ব্যবস্থার জন্য নির্দেশনা রয়েছে। নির্দিষ্ট হাসিলের বাইরে অতিরিক্ত টাকা নেয়া যাবে না। অতিরিক্ত টাকা নিলে চাঁদাবাজির মামলায় পড়তে হবে। এক হাটের গরু জোর করে অন্য হাটে নেওয়া যাবে না। রাস্তার ওপর গরু রাখার সুযোগ নেই। কোন অনিয়ম হলেই কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। প্রয়োজনে মোবাইলকোর্টের সহযোগীতা নেয়া হবে।

নিউজজি/ এস দত্ত

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন