বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ , ৬ জিলহজ ১৪৪৫

দেশ

ঈদকে সামনে রেখে টুং টাং শব্দে মুখরিত শাহজাদপুরের কামার পল্লী

মো. আমিরুল ইসলাম, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) ১১ জুন, ২০২৪, ১৭:২০:৩০

130
  • ছবি : নিউজজি

সিরাজগঞ্জ: পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের কামাররা। রাত-দিন হাট বাজার আর গলি মুখে তাদের হাতুড়ি-হেমারের টুং টাং শব্দে জানান দিচ্ছে কদিন পরেই ঈদ।

আর সেই ঈদকে ঘিরে আশার আলো দেখছেন কামার শিল্প। নাওয়া-খাওয়া ভুলে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে কামাররা। তৈরি করছেন কাটারি, ছুরি, চাকু, চাপাতি, দা, বটি। আগামী সোমবার (১৭ জুন) ঈদুল আজহা। যতই দিন ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে কামারদের ব্যস্ততা।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও কামার পল্লীতে ব্যস্ত কামাররা। আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি লোহা, স্টীলের যন্ত্রপাতির সামনে এমনিতেই নাস্তানাবুদ এই শিল্প সংশ্লিষ্টরা। সারা বছর কাজের চাপ না থাকলেও ঈদুল আজহার আগে কাজের চাপ বাড়ে। তাই কোরবানির মৌসুমেই তাদের সবচেয়ে বেশি কাজ হয়।

তবে কয়লার দাম বেশি হওয়ায় অন্য বারের চেয়ে এবার ছুরি, দা, বোটির দাম কিছুটা বেশি বলে জানান কামাররা। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় কামার শিল্প বিলুপ্তপ্রায়। সময়ের সাথে তাল মেলাতে পারছেন না এ শিল্পের সাথে জড়িতরা। উল্টো প্রযুক্তির দাপটে ক্রমেই মার খাচ্ছে এ শিল্প। তাই কামাররা বলেন বাপ-দাদার পেশা তাই এখনো ধরে রেখেছি।

এদিকে, কোরবানির পশুর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনতে বা পুরাতন সরঞ্জামে শান দিতে ভুলছেন না মুসল্লিরা। এ জন্য ভিড় জমাচ্ছেন কামার পল্লীতে। অনেকে পছন্দ করে কিনছেন ছুরি, বোটি দা, চাপাতি, হাঁসুয়া। সাথে মাংস কাটার জন্য কাঠের গুঁড়িও কিনছেন অনেকে।

উপজেলার কামার পল্লীর বিভিন্ন দোকান ঘুরে জানা গেছে, প্রতিটি কাটারি বিক্রি হচ্ছে প্রকারভেদে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা, দা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, কেজি হিসেবে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, ছোট ছুরি ১২০ থেকে ১৫০ টাকা। বড় ছুরি ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা এছাড়া বঁটি প্রতি পিস ২০০ থেকে ৫০০ টাকা।

ক্রেতাদের দাবি, এ বছর পশু কোরবানির উপকরণের দাম তুলনামূলক বেশি। আর কামারদের দাবি, কয়লা ও লোহার দাম বেড়ে যাওয়ায় সরঞ্জামাদির দাম কিছুটা বাড়ানো হয়েছে।

উপজেলার ব্রজবালা গ্রামের স্বপন কামার বলেন, চাপ বেশি থাকায় রাতদিন কাজ করতে হচ্ছে তাদের। নতুন সরঞ্জামের চাহিদার পাশাপাশি পুরাতনগুলোতে শান দেয়া হচ্ছে। তবে এ বছর বেশিরভাগ ক্রেতা পুরাতন সরঞ্জাম মেরামত করতে নিয়ে আসছেন। বিক্রি একটু কম হচ্ছে।

উপজেলার তালগাছি বাজারের গোবিন্দ কর্মকার বলেন, ৩৬ বছর ধরে এই পেশায় যুক্ত আছি। আমার পূর্বপুরুষরাও এই কাজ করতেন। এখন সারা বছর তেমন কোনো কাজ থাকে না। তবে কোরবানির ঈদের আগে কাজের চাপ থাকে। খুব বেশি বিক্রি হচ্ছে না, ঈদের এক-দুই দিন আগে বিক্রি বাড়বে।

আবুতালেব নামে এক ক্রেতা বলেন, ঈদের আর কয়েকদিন বাকি। তাই আগে থেকেই পশু জবাইয়ের সরঞ্জামের নতুন ছুরি কিনে রাখছি।

আরেক ক্রেতা আব্দুল মাজেদ মাস্টার বলেন, পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম কেনার পাশাপাশি পুরাতনগুলোতে শান দিতে নিয়ে এসেছি।

নিউজজি/এসএম/নাসি 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন