মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২, ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ , ২৮ জিলকদ ১৪৪৩

দেশ

বীর মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আলী হত্যায় ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড

নিউজজি ডেস্ক ২৩ জুন, ২০২২, ১৬:৩৫:২৭

126
  • ছবি: ইন্টারনেট

ঢাকা: কুড়িগ্রামের ধর্মান্তরিত বীর মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আলী হত্যা মামলার ৬ আসামির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) বিকেল ৩টায় সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. আব্দুল মান্নান এ রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ৬ জন হলেন- জাহাঙ্গীর ওরফে রাজিব ওরফে রাজীব গান্ধী, রিয়াজুল ইসলাম ওরফে মেহেদী, গোলাম রাব্বানী, হাসান ফিরোজ ওরফে মোখলেস, মাহবুব হাসান মিলন ওরফে হাসান, আবু নাসির ওরফে রুবেল। রায় ঘোষণার সময় রিয়াজুল ইসলাম ওরফে মেহেদী বাদে বাকি ৫ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

রায় শুনে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। এ সময় তারা বলেন, আমরা ঘটনা কিছুই জানি না। আমরা নির্দোষ।

আলোচিত এ হত্যা মামলায় ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড রায়ের পাশাপাশি বিস্ফোরক আইনের ৩ ধারায় জাহাঙ্গীর, গোলাম রাব্বানী ও হাসানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ১ বছরের কারাদণ্ড দেন বিচারক।

ওই আইনের ৪ ধারায় এই তিনজনকে আবারও ২০ বছরের কারাদণ্ড, ২৫ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, বীর মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আলী হত্যা মামলায় ১০ জেএমবি সদস্যকে আসামি করা হয়েছিল। কিন্তু চার্জশিট দাখিলের আগেই পুলিশের গুলিতে তিন আসামি এবং চার্জশিট দাখিলের পর আরও এক আসামি নিহত হলে তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বাকি ৬ জনের বিরুদ্ধে এবং জাহাঙ্গীর ওরফে রাজীব গান্ধী, মো. রিয়াজুল ইসলাম ওরফে মেহেদী এবং গোলাম রব্বানী নামে তিন আসামির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনে পৃথক দুটি অভিযোগ গঠন করেন আদালত।

আদালত সূত্র জানায়, উভয় মামলার আসামিদের মধ্যে রিয়াজুল ইসলাম ওরফে মেহেদী পলাতক রয়েছে। অপর ৫ আসামি জাহাঙ্গীর ওরফে রাজীব গান্ধী, গোলাম রব্বানী, হাসান ফিরোজ ওরফে মোখলেছ, মাহাবুব হাসান মিলন ওরফে হাসান এবং আবু নাসের ওরফে রুবেল কুড়িগ্রাম জেলা কারাগারে রয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), কুড়িগ্রামের পরিদর্শক এম এ ফারুক জানান, সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে আইন অনুযায়ী মামলাটি তদন্ত করে আদালতে চার্জশিট দেয়া হয়েছিল।

এর আগে, পিপি এসএম আব্রাহাম লিংকন বলেন, রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাষ্ট্রকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা অপপ্রয়াসে এই খুন করা হয়েছে। এটা কোনও সাধারণ খুন নয়। একটা রাজনৈতিক উদ্দেশে এ খুন করা হয়েছে। আসামিরা আদালতে দেয়া তাদের জবানবন্দিতে সেটা স্বীকারও করেছে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২২ মার্চ কুড়িগ্রাম শহরের কৃষ্ণপুর গাড়িয়াল পাড়ার কাছে গড়ের পার এলাকায় প্রাতঃভ্রমণে বের হন ওই এলাকার বাসিন্দা ধর্মান্তরিত বীর মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আলী। সকাল পৌনে ৭টার দিকে ওই এলাকার আশরাফিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তরে পাকা রাস্তার ওপর হোসেন আলীকে কুপিয়ে হত্যা করে জেএমবি সদস্যরা। স্থানীয় কজন ব্যক্তি তাদের আটকের চেষ্টা করলে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে হত্যাকারীরা। ওই দিনই অজ্ঞাত দুষ্কৃতিকারীদের আসামি করে কুড়িগ্রাম সদর থানায় মামলা করেন নিহত বীর মুক্তিযোদ্ধার একমাত্র ছেলে রুহুল আমিন আজাদ।

নিউজজি/জেডকে

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন