মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ , ১৫ শাওয়াল ১৪৪৩

Untitled Document
দেশ

আবারও রাষ্ট্রদূত হয়ে বাংলাদেশে আসতে চান মিলার, কিন্তু...

নিউজজি ডেস্ক ১৮ জানুয়ারি, ২০২২, ২০:৪০:৩৯

156
  • আবারও রাষ্ট্রদূত হয়ে বাংলাদেশে আসতে চান মিলার, কিন্তু...

ঢাকা : যেন রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দের ক্ল্যাসিক পংক্তি ‘আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে এই বাংলায়’-এর অনুরণন ঝড়ে পড়লো রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলারের কণ্ঠে। বাংলাদেশে তিন বছরের দায়িত্ব পালন শেষে দেশে ফিরে যাওয়ার অপেক্ষায় আছে যুক্তরাষ্ট্রের এই কূটনীতিক। সেই অপেক্ষার প্রহরে তিনি জানিয়েছেন সবুজ শ্যামল বাংলার প্রতি জমে ওঠা তার ভালোবাসার কথা।

আর্ল মিলার বলেছেন, সম্ভব হলে আবারও রাষ্ট্রদূত হয়ে বাংলাদেশে আসার ইচ্ছা আছে তার। তবে তার পক্ষে যে তা যে আর সম্ভব নয় সেটাও জানিয়েছেন তিনি। আক্ষেপের সুরে মিলার বলেন, ‘তা আর সম্ভব নয়।’

কারণ, সরকারি চাকরিজীবন থেকেই অবসরে যাচ্ছেন তিনি।  অবশ্য বাংলাদেশে দ্বিতীয়বার রাষ্ট্রদূত হওয়ার সুযোগ না থাকলেও আনঅফিসিয়ালি (অনানুষ্ঠানিকভাবে) রাষ্ট্রদূত হয়ে সারাজীবন কাজ করার প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেন তিনি।

এক বিদায়ী অনুষ্ঠানে গতকাল (সোমবার) বাংলাদেশের প্রতি তার এই ভালোবাসার কথা জানান যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত। আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এর আয়োজন করে।

বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে তিন বছরের দায়িত্ব পালন শেষে এ মাসেই ঢাকা ছাড়ছেন আর্ল রবার্ট মিলার। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করা শুরু করেছেন তিনি। ২০১৮ সালের ১৯ নভেম্বর ঢাকায় রাষ্ট্রদূত হিসেবে মার্সিয়া বার্নিকেটের স্থলাভিষিক্ত হন মিলার। এবার তার স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন অর্থনীতি ও বাণিজ্যবিষয়ক কূটনীতিক পিটার হার্স। তিনি এখন ঢাকায় আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এদিকে, ঢাকার মার্কিন দূতাবাস জানায়, অ্যামচেমের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রদূত মিলারকে জানানো হয় হৃদয়গ্রাহী বিদায় সম্ভাষণ। সংগঠনের সদস্যরা তাকে বাংলাদেশে সেবা ও সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানান। যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক তৈরিতে জোরালো ভূমিকার জন্য রাষ্ট্রদূত অ্যামচেম সদস্যদের প্রশংসা করেন।

এসময় আর্ল মিলার বলেন, রাষ্ট্রদূত হিসেবে আমার বিদায় জানানোর সময় এসেছে; কিন্তু আমি বাংলাদেশকে বিদায় জানাবো না, কারণ আমি সবসময় এক টুকরো বাংলাদেশ আমার হৃদয়ে বহন করব।

অ্যামচেম এর অনুষ্ঠানে মিলার আরো জানান, তিন বছর ধরে এ দেশে কাজ করতে পারা তার জন্য অনেক সম্মানের। দারুণ স্মৃতি নিয়ে দেশে ফিরছেন তিনি। মিলার বলেন, আমি এবং আমার পরিবারের প্রতি এ দেশের মানুষের ভালোবাসায় আমি সম্মানিত, কৃতজ্ঞ।

অ্যামেচেম সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহম্মেদ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। সংগঠনের সাবেক সভাপতি আফতাব-উল-ইসলাম বলেন, আর্ল মিলারের দায়িত্বকালে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নত হয়েছে। বাণিজ্য-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিরোধ নিষ্পত্তি করেছেন তিনি। আরো বক্তব্য দেন অ্যামচেমের সাবেক দুই সভাপতি নুরুল ইসলাম ও ফরেস্ট কুকসন।

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন