বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৬ আশ্বিন ১৪২৮ , ১৩ সফর ১৪৪৩

দেশ

চালক বেশে গার্মেন্টসের কাপড় চুরি, গ্রেপ্তার ৩

নিউজজি ডেস্ক ১ আগস্ট, ২০২১, ১৫:৫৭:৪৮

  • চালক বেশে গার্মেন্টসের কাপড় চুরি, গ্রেপ্তার ৩

ঢাকা: গার্মেন্টসের ট্রাক-কাভার্ডভ্যানে চালক হিসেবে চাকরি নেয় আসাদুজ্জামান মোল্লা আসাদ। চালক হিসেবে কোথাও বেশিদিন নয়, বরং সময়ে সময়ে চাকরি পরিবর্তন করে সে। আদতে চালক বেশে গার্মেন্টসের কাপড় চুরি চক্রের অন্যতম সদস্য এই আসাদ। আসাদসহ এই চক্রের তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর এসব তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।

রোববার (১ আগস্ট) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিবির যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশীদ এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, কোনো গার্মেন্টসের পণ্য পরিবহনের সময় কাপড়ের ধরণ ও সুযোগের অপেক্ষায় থাকে এই চক্র। সুবিধামতো সময়ে সেসব কাপড় গন্তব্যে না পৌঁছে চুরি করে স্টক করে তারা। এরপর কোনো চোরাই মার্কেটে ক্রেতা ঠিক করে বিক্রি করে দেয়া হয় সেসব কাপড়।

সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরা ও গাজীপুরের কাপাসিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসাদসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ। এ সময় তাদের কাছ থেকে নোমান গ্রুপের চুরি হওয়া একটি কাভার্ডভ্যানসহ আট লাখ টাকা মূল্যের কাপড় উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার বাকি দুইজন হলো- আল আমিন ওরফে সরোয়ার ও আবেদ আলী। এদের মধ্যে আল আমিন নিজ বাসায় চুরির পর কাপড়গুলো স্টক করতো আর আবেদ আলী চোরাই মার্কেটে কাপড়ের ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করতো।

ডিবির যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, ‘গার্মেন্টসের পণ্য চুরি যাওয়ার ঘটনায় সম্প্রতি একটি কমিটি হয়, যেখানে ডিবি পুলিশও রয়েছে। এরপর এসব ঘটনা তদন্তের ধারাবাহিকতায় এই চুরি চক্রকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করে ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ।’

তিনি বলেন, ‘নোমান গ্রুপের কাপড় চুরির ঘটনার দুই দিনের মধ্যেই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরার আব্দুল্লাহপুর ধউর ব্রিজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে কাভার্ডভ্যানসহ চালক আসাদুজ্জামান মোল্লা আসাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী পরে গাজীপুরের কাপাসিয়া এলাকা থেকে আল আমিনের গোডাউন থেকে চুরি যাওয়া ৮ হাজার ৪৬০ মিটার কাপড় জব্দসহ বাকি দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।’

গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আসাদ চালক হিসেবে বিভিন্ন গার্মেন্টসে চাকরি নেয়। গার্মেন্টসের মালামাল পরিবহনের সময় সুবিধামতো সময়ে কাভার্ডভ্যানসহ চুরি করে নিখোঁজ হয়ে যায় সে। পরে আবার অন্য গার্মেন্টসে চাকরি নিয়ে নতুন করে চুরির পরিকল্পনা করে।’

তিনি বলেন, ‘আসাদ চুরি করে কাভার্ডভ্যানসহ কাপড়গুলো আল আমিনের গোডাউনে রাখে। পরে আবেদের মাধ্যমে চোরাই বাজারে সেসব কাপড় বিক্রি করা হতো। আসাদের বিরুদ্ধে এর আগেও গাজীপুরের কালিগঞ্জ ও টঙ্গি পূর্ব থানায় মামলা রয়েছে।’

 

হারুন অর রশীদ বলেন, ‘গার্মেন্টস মালিকদের এ বিষয়ে আরো সচেতন হতে হবে। যাদের চালক হিসেবে চাকরি দেয়া হয়, তাদের পরিচয়পত্র, ঠিকানা ও স্বজনদের বিস্তারিত তথ্য রাখা উচিৎ যাতে এমন কোনো ঘটনা ঘটলে দ্রুত চালককে শনাক্ত করা যায়। এ ছাড়া পণ্য পরিবহনের সময় কাভার্ডভ্যান ট্র্যাকিংয়ের জন্য জিপিএস ডিভাইসও বসানো যায়। যারা কাপড় কেনে তাদেরও খেয়াল রাখা উচিৎ এসব চোরাই কিনা।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এই চক্রের সঙ্গে আরো কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’

নিউজজি/টিবিএফ

 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
        
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers