বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৩১ ভাদ্র ১৪২৮ , ৭ সফর ১৪৪৩

দেশ

ওসমানীতে লন্ডন প্রবাসী নারীকে হয়রানি, বিমানের দুই কর্মকতা বরখাস্ত

সিলেট প্রতিনিধি ১ আগস্ট, ২০২১, ১৩:৪১:৪২

  • ইন্টারনেট থেকে

সিলেট: এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত ব্রিটিশ নাগরিক জামিলা চৌধুরী নামের এক নারীকে হয়রানির অভিযোগে দুই কর্মকতাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

বিমানের সিলেট স্টেশন ব্যবস্থাপক চৌধুরী ওমর হায়াত রোববার (১ আগস্ট) সকালে এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে শাস্তির আওতায় আনা দুই কর্মকতার নাম প্রকাশ প্রকাশ করেননি তিনি।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় দুজনকে শনিবার (৩১ জুলাই) সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের ঢাকায় গিয়ে রিপোর্ট করার জন্য বলা হয়েছে। কিন্তু করোনার কারণে তারা ওইদিন ঢাকায় যেতে পারেননি। আজ তাদের ঢাকায় যাওয়ার কথা রয়েছে।

চৌধুরী ওমর হায়াত আরো বলেন, গত ২৮ জুলাই সিলেট সদর উপজেলার খাদিম পাড়া এলাকার ওই নারী যাত্রীর সঙ্গে সৃষ্ট ঘটনার জন্য শুক্রবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যায় তার বাসায় গিয়ে শান্তনা দিয়ে বলেছি, আগামী ৪ আগস্ট যে ফ্লাইট আছে, সে ফ্লাইটে যেতে তাকে সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হবে। এছাড়া ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলইন্স কর্তৃপক্ষ ঢাকা থেকে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। রোববার (১ আগস্ট) তদন্ত করতে আসবেন বিমানের একজন জিএম। এছাড়া বিষয়টি সিলেট অফিসের পক্ষ থেকেও তদন্ত করা হচ্ছে।

জানা গেছে, বাবার অসুস্থতার খবর পেয়ে যুক্তরাজ্যে সন্তানদের রেখে দেশে এসেছিলেন ব্রিটিশ নাগরিক জামিলা চৌধুরী। গত বুধবার (২৮ জুলাই) বাংলাদেশ বিমানের বিজি-২০১ ফ্লাইটে দুপুর ২টা ৪০মিনিটে তার সিলেট থেকে সরাসরি যুক্তরাজ্য ফেরার কথা ছিল। সেখানে কোয়ারেন্টাইনের জন্য হোটেলও বুকিং করা ছিল। ওইদিন নির্ধারিত সময়ের তিনঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে যান জামিলা। বিমানবন্দরে চেকইনের সময় তার কাছে তিনটি লাগেজ ছিল। লাগেজগুলোর ওজন নির্ধারিত ওজনের চেয়ে বেশি ছিল। অতিরিক্ত লাগেজের কারণ দেখিয়ে তার কাছে অবৈধভাবে অতিরিক্ত টাকা চাওয়া হয়। এসময় তিনি অতিরিক্ত টাকা না দেয়ায় তাকে বোর্ডিং পাস দেয়া হয়নি। এ কারণে নির্ধারিত ফ্লাইটে তিনি গন্তব্যে যেতে পারেননি।

জামিলা চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, আমার তিনটি লাগেজের ওজন বেশি ছিল। তবে আমি একটি লাগেজ নিতে চাইলে তারা আমাকে বলেন যে, গেট ক্লোজ হয়ে গেছে। আমি আর যেতে পারব না।

জামিলা চৌধুরী আরো বলেন, আমি বিমানবন্দরে অনেকের কাছেই সাহায্য চেয়েছিলাম। কিন্তু কেউই আমাকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসেননি। আমি তিন ঘণ্টা আগেই বিমানবন্দরে প্রবেশ করি। তবুও আমি যুক্তরাজ্য যেতে পারিনি। এমনকি ডেস্কে বসা একজন কর্মকর্তা আমার মুখের ওপর পাসপোর্ট ছুড়ে মারেন এবং আমাকে পাগল বলেও মন্তব্য করেছেন।

তবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সিলেট স্টেশন ম্যানেজার চৌধুরী মো. ওমর হায়াত বলেন, ওই যাত্রীর সাথে নির্ধারিত ওজনের চেয়ে ৪৪ কেজি মালামাল বেশি ছিল। প্রতি কেজি ২ হাজার ৬১১ টাকা হিসেবে এক লাখ টাকার উপরে পরিশোধ করার কথা। কিন্তু তিনি প্রথমে ওভার ওয়েটের মূল্য পরিশোধ করতে রাজি হননি। পরে যখন তিনি অতিরিক্ত লাগেজ ছেড়ে যেতে রাজি হন তখন কাউন্টার বন্ধ হয়ে গেছে।

তিনি আরো বলেন, নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা আগে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের কাউন্টার বন্ধ করতে হয়। কিন্তু ওই যাত্রী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তার লাগেজের ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। তাই তাকে রেখেই বিমান ছাড়তে হয়েছে।

তিনি বলেন, তারপরও তিনি যে হয়রানির অভিযোগ করেছেন এ জন্য আমরা তার বাসায় গিয়ে ক্ষমা চেয়েছি। এই ঘটনায় দুজনকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তও করা হচ্ছে।

নিউজজি/ এসআই

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
        
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers