বুধবার, ২৪ জানুয়ারি ২০১৮, , ৬ জুমাদিউল আউয়াল ১৪৩৯

সাহিত্য
  >
কবিতা

কাব্যপ্রাণ মাহবুবুল হক শাকিল

ফারুক হোসেন শিহাব ডিসেম্বর ৬, ২০১৭, ১১:৩৮:০৬

  • কাব্যপ্রাণ মাহবুবুল হক শাকিল

কবিতা তিনি ছোটবেলা থেকেই লিখতেন। কিন্তু সেসব লালন করতেন গোপনে। রাজনীতির কবিতাই তাকে টেনেছে প্রবলভাবে। তিনি শুধু কবিই নন, ছিলেন একজন আবৃত্তিকার, ছোটগল্পকার এবং উপস্থাপক এমনকি বিচক্ষণ রাজনীতিকও। বলছি, প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী প্রয়াত কবি মাহবুবুল হক শাকিলের কথা। তিনি ছিলেন কবিতার এক স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর।

আজ ৬ ডিসেম্বর তার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৬ সালের এই দিনে আকস্মিক মৃত্যুর পর ৭ ডিসেম্বর মাহবুবুল হক শাকিলকে তার শৈশব-কৈশোরের স্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহ শহরের ভাটিকাশর মসজিদের পাশের কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

প্রতিভাবান এই কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া এবং মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে তার পরিবার, স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও তার নিজের নামে গড়ে ওঠা মাহবুবুল হক শাকিল সংসদ। আজ বাদ আসর তাদের ময়মনসিংহের বাঘমারার বাসায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল ও ৭ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগ স্মরণ সভার আয়োজন করেছে। এছাড়াও ৮ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে বাদ জুমা মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

মাহবুবুল হক শাকিলের জন্ম ১৯৬৮ সালের ২০শে ডিসেম্বর টাঙ্গাইলে। তার পৈতৃক নিবাস ময়মনসিংহে। পারিবারিক সূত্রে ছোটবেলা থেকেই রাজনীতির সাথে তার পরিচয়। ময়মনসিংহ জিলা স্কুলের মেধাবী ছাত্র মাহবুবুল হক শাকিল ১৯৮৪ সালে এসএসসি পাশ করেন। আনন্দ মোহন কলেজে ভর্তি হবার পর যোগ দেন বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠন ছাত্রলীগে। তখন থেকে রাজনীতিই তার ধ্যান জ্ঞান। ১৯৮৬ সালে এইচএসসি পাস করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯০ সালে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক এবং ১৯৯১ সালে স্নাতকোত্তর শেষ করেন।

একটা সময় এলএলবিও সম্পন্ন করেন। যদিও কখনো আইন ব্যবসায় নামেননি। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল সেই সময়ে মাহবুবুল হক শাকিল খুব দ্রুতই নেতৃত্বগুণে ছাত্রলীগের প্রথমসারির নেতাদের চোখে পড়েন। একে একে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সদস্য, সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহ-সম্পাদক ছিলেন। এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে ছিল তার নিবিড় যোগাযোগ ও সম্পর্ক। ২০০০ সালে আইনজীবী নিলুফার আনজুম পপির সাথে তাঁর বিয়ে হয়। শাকিল-পপি দম্পতির একমাত্র সন্তান জাকিয়া রুবাবা মৌপি।

২০০২ সালে আওয়ামী লীগের গবেষণা সেল সিআরআই-এর শুরুর যাত্রা থেকে জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জড়িত ছিলেন শাকিল। ছাত্ররাজনীতি করার সময় থেকেই বক্তৃতা-বিবৃতি ও প্রেস রিলিজ তৈরির কাজ নিজ উদ্যোগেই করতেন। ছাত্ররাজনীতি শেষ করে দলীয় নেত্রীর পক্ষে নানাবিধ লেখালেখির কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেন। ২০০১-২০০৬ সালের বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনার প্রেস সহকারীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পরে মাহবুবুল হক শাকিলকে উপ-প্রেস সচিব হিসেবে নিয়োগ দেন এবং পরবর্তীতে যুগ্ম-সচিবের মর্যাদায় বিশেষ সহকারী(মিডিয়া) হিসেবে নিয়োগ দেন।

শেখ হাসিনা ২০১৪ সালে পুনরায় সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পরে মাহবুবুল হক শাকিলকে অতিরিক্ত সচিবের মর্যাদায় বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেন। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিষ্ঠা ও বিশ্বাসের সাথে তিনি এই দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি ছিলেন আপদমস্তক একজন কাব্যপ্রাণ মানুষ। নিমগ্ন শিল্পরসে প্রাণিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মাহবুবুল হক শাকিলের রয়েছে তিনটি কাব্যগ্রন্থ- খেরোখাতার পাতা থেকে (২০১৫, অন্বেষা প্রকাশন), মন খারাপের গাড়ি (২০১৬, অন্বেষা প্রকাশন) এবং জলে প্রুজি ধাতব মুদ্রা (২০১৭, অন্বেষা প্রকাশন)।

এছাড়া শাকিলের একমাত্র ‘ফেরা না ফেরার গল্প’ শিরোনামে একটি ছোটগল্পের সংকলন ২০১৭ সালে প্রকাশ করে  প্রকাশনী সংস্থা অন্যপ্রকাশ। ২০১৬ সালে পাঞ্জেরী বুক শপ-পিবিএস থেকে বের হয় শাকিলের কবিতা আবৃত্তির সিডি ‘রাতের এপিটাফ’। অবশ্য শাকিলের মৃত্যুর পরে ২০ ডিসেম্বর অ্রযালবামটির মোড়ক উন্মোচিত হয়। 

বর্ণময় ও ব্যস্ততম রাজনৈতিক জীবনে মাহবুবুল হক শাকিল ভারত, জাপান, লন্ডন, আমেরিকা, ফ্রান্স, ইতালি, জার্মানি, কানাডা, সুইজারল্যান্ডসহ এশিয়া, আমেরিকা ও ইউরোপের অধিকাংশ দেশ সরকারি ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনে সফর করেছেন।

নিউজজি/এসএফ

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2016 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers