বুধবার, ২৪ জানুয়ারি ২০১৮, , ৬ জুমাদিউল আউয়াল ১৪৩৯

সাহিত্য
  >
কবিতা

কবি খালেদ মতিনের জীবনাবসান

নিউজজি প্রতিবেদক আগস্ট ২, ২০১৭, ১৩:২৮:৫৫

  • কবি খালেদ মতিনের জীবনাবসান

চলে গেলেন বিশিষ্ট কবি, কথাসাহিত্যিক ও অনুবাদক খালেদ মতিন। রাজধানীর মনোয়ারা হাসপাতালে মঙ্গলবার রাত পোনে ৯টায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়...রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর।  

খালেদ মতিনের মেয়ে জামাই কামাল আহমেদ এ খবরটি নিশ্চিত করে জানান, গত চারদিন আগে নেত্রকোনায় বাসার অদূরে একটি অটোরিকশা তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এরপর স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শে দ্রুত ঢাকায় এনে মনোয়ারা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে দুদিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর কাল বেডে পাঠিয়ে দেন। সেখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

ব্যক্তিগত জীবনে খালেদ মতিন ২ মেয়ের জনক। শিক্ষকতা থেকে অবসরের পর তিনি তার স্ত্রীকে নিয়ে নেত্রকোনায় বসবাস করছিলেন। নেত্রকোনা শহরের উপকণ্ঠে তার জন্ম ১৯৪৯-এর ১২ জানুয়ারি। নেত্রকোনার দত্ত হাই স্কুল থেকে ১৯৬৫-তে এসএসসিতে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। ১৯৬৭-তে নেত্রকোনা কলেজ থেকে এইচএসসিতে দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মাস্টার্স  যথাক্রমে ১৯৭০ ও ১৯৭১ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পাস করেন।

শৈশব থেকেই লেখালেখির শুরু। নেত্রকোনার মরহুম খালেকদাদ চৌধুরীর সম্পাদনায় পাক্ষিক উত্তর আকাশে প্রথম লেখা ছাপা হয় তার। ৬০ দশকের প্রথম থেকে খালেদ-বিন-আস্কার ছদ্মনামে লিখেতেন। কবিতায় তার হাতেখড়ি নির্মলেন্দু গুণ ও রফিক আজাদের সমসাময়িক সময়ে। ষাটের দশকে দৈনিক সংবাদ ও আজাদসহ তখনকার প্রধান পত্রিকাগুলোতে কিঞ্চিৎ পরিচিতি গড়ে উঠলেও ৬০ দশকের শেষ পর্যায়ে অনার্সের ছাত্র থাকাকালে একবার বাড়ি ফিরে দেখলেন কবিতার খাতাগুলো সবই সের দরে বিক্রি হয়ে গেছে। এ ঘটনা স্বভাবতই তাকে সাময়িকভাবে ভগ্নোদ্যম করে।

স্বাধীনতার পর নতুনভাবে আবার মনোনিবেশ করেন কিন্তু স্বাধীনতা উত্তর অনেক লেখক-কবির ভিড়ে নিজের পুনরুদ্ধার কোনো মতেই সম্ভব হয়নি। মাঝে পাচঁ-সাত বছর প্রায় বন্ধ্যাবস্থা অতিক্রান্ত হয়। ১৯৭৫-এর পর কুলিয়ারচর কলেজে শিক্ষকতাকালে রাজবাড়ীর অর্থনীতির লেকচারার আসাদুজ্জামানের প্রেরণায় আবার লেখালেখিতে পূর্ণোদ্যমে প্রবেশ।

ছদ্মনামের ঈষৎ পরিবর্তনে খালেদ-বিন-অস্কার নামে নব্বই দশকব্যাপী ‘দৈনিক খবর’ পত্রিকায় কবিতা ছাড়াও বিচিত্রবিষয়ে কলামিস্ট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ২০০০-এর কাছাকাছি সময়ে কবি সমুদ্রগুপ্তের পরামর্শে শেষবারের মতো খালেদ মতিনে রূপান্তরিত হন।

এ পর্যন্ত তার লেখালেখিতে প্রায় ৭০০ অধিক সনেট, ১০০০/১৫০০ কবিতা, ৭০/৮০ ছোটগল্প, কয়েকটি উপন্যাস ও শতাধিক প্রবন্ধ-নিবন্ধ রয়েছে। সীমিত সাধ্যে নিজ খরচে এ পর্যন্ত তার  মাত্র ৭টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। যার মধ্যে শবাধারে মমি (৫২ কবিতা), মহাভারতের পাখি ( ১০০ সনেট ৪৩ কবিতা), চাঁদ ও ফাহিয়েন (৩০০ সনেট ১১ কবিতা), অর্মত হরিণ (২০০ সনেট ২১ কবিতা) উল্লেখযোগ্য। গল্প সংকলনের মধ্যে রয়েছে সম্রাজ্ঞীর পাশে একরাত (১৪ গল্প) রাজভোগ (২৭ গল্প) ও মহাজল (কাব্যগ্রন্থ)। বরেণ্যে এ কবির অধিকাংশ লেখাই অপ্রকাশিত রয়ে গেছে।

নিউজজি/এসএফ/এমকে

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2016 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers