বুধবার, ২৪ জানুয়ারি ২০১৮, , ৬ জুমাদিউল আউয়াল ১৪৩৯

সাহিত্য
  >
কবিতা

বর্ণাঢ্য আয়োজনে কাব্যলোকের কাব্যপাঠ ‘বর্ষার কবিতা’

নিউজজি প্রতিবেদক জুলাই ৩০, ২০১৭, ১৭:১৬:২২

  • বর্ণাঢ্য আয়োজনে কাব্যলোকের কাব্যপাঠ ‘বর্ষার কবিতা’

কাব্যলোকে কাব্যপাঠ-এর ঊনবিংশতম আয়োজন হলো বর্ষার কবিতা দিয়ে। সম্প্রতি জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ফজলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক, সাবেক সচিব আবদুল লতিফ মণ্ডল। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক যুগ্ম সচিব ও রাজউকের সাবেক ভারপ্রপাত চেয়ারম্যান কবি সরকার মাহবুব।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই দেশে অতিবৃষ্টির কারণে হাওড়াঞ্চলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের প্রতি সহানুভতি প্রকাশ করেন সম্পাদক নুরুল্লাহ মাসুম। এরপর অতিবর্ষণে পাহাড় ধ্বসে মৃতদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। স্বাগত বক্তব্যে শারদীয়া সম্পাদক সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘সাপ্তাহিক শারদীয়ার আয়োজনে এটাই কাব্যলোকের শেষ আয়োজন। পরবর্তী অনুষ্ঠান থেকে কাব্যলোকের সকল আয়োজন করবে নবগঠিত কাব্যলোক ক্রিয়েটিভস লিমিটেড নামের কোম্পানী।’

তিনি আরো জানান, ‘কাব্যলোক বিগত ১৯টি আয়োজনে দেশ-বিদেশের ৩৫১জন কবির ১১৬৩টি কবিতা প্রকাশের মধ্য দিয়ে কাব্যজগতে একটা অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।’ সংস্কৃতির অন্যান্য শাখায় নবগঠিত কাব্যলোক ক্রিয়েটিভস লিঃ-এর ব্যানারে ভবিষ্যতে অবদান রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

এরপর শুরু হয় কাব্যলোকে অংশগ্রহণকারী কবিদের স্বরচিত কবিতা পাঠের আসর। অনুষ্ঠানে উপস্থিত কবিগণ স্বরচিত কবিতা আবৃত্তির মধ্য দিয়ে সবাইকে মুগ্ধ করেন। আবৃত্তির ফাঁকে বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি কবি সরকার মাহবুব। তিনি বহুলপঠিত বেশ কিছু কবিতার উদ্ধৃতি দিয়ে নবীন কবিদের উৎসাহিত করে বলে, ‘আরো বেশী বেশী করে পড়তে হবে, জানতে হবে কবিতা লেখার মৌলিক বিষয়গুলো।’ তিনি কাব্যলোকের অগ্রগতি ও সুন্দর ভবিষ্যত কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে এবারের আয়োজনে প্রকাশিত কবিতার মধ্য থেকে বাছাইকৃত সেরা পাঁচ কবির নাম ঘোষণাকালে সম্পাদক বাছাইকৃত কবিতার মধ্যে ষষ্ঠ থেকে দশম স্থান অধিকারী কবিদের নাম ঘোষণা করেন। এরপর সেরা পাঁচ কবতিা ও কবির নাম ঘোষণা করেন। যেখানে প্রথম হয় হাসিনা জাহান কুহেলী রচিত ‘অনন্ত জলের ধারা’। দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে তাহমীদুল ইসলাম-এর ‘বৃষ্টি আমাকে শোনাতো সমুদ্রের গান’, তৃতীয় মুনা চৌধুরী রচিত ‘এক ঘন্টা’, চতুর্থ শেলী সেলিনা রচিত ‘এসো বর্ষায়’ এবং পঞ্চম স্থান অধিকার করে সালাম তাসির রচিত ‘তোমার দু-চোখে বর্ষা নামে’।

অনুষ্ঠানে সেরা পাঁচ নির্বাচিতদের সনদ ও মূল্যবান বই উপহার দেয়া হয়। এরপর প্রথমবারের মতো ঘোষণা করা হয় ‘সম্পাদকের পছন্দ’ হিসেবে বিবেচিত কবি ও কবিতার নাম। এ ক্যাটাগরিতে এবার নির্বাচিত হয়েছে কবি প্রভা রাণী ধর রচিত ‘বর্ষা তুমি’। এই কবিতাটির জন্যও মূল্যবান বই ও সনদ প্রদান করা হয়।

প্রধান অতিথির ভাষণে প্রাবন্ধিক আবদুল লতিফ মণ্ডল বলেন, ‘আমি মূলত প্রবন্ধকার হলেও কবিতা ভালবাসি। কবিতা চর্চার মধ্যদিয়ে সাহিত্যে অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে বলে আমি বিশ্বাস করি।’ তিনিও নবীন কবিদের বেশী করে পাঠভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বন জানান।

সভাপতির ভাষণে ফজলুর রহমান অংশগ্রহণকারী সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং আগামীতেও কাব্যলোক-এর অনুষ্ঠানগুলো আয়োজনে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ছিল রেজিস্ট্রেশন কুপনের র‌্যাফেল ড্র। এতে প্রথম পুরস্কার হিসেবে একটি মোবাইল ফোনসেট জিতে নেন কবি তাহ্মীদুল ইসলাম। বাকী চারটি পুরস্কার জিতে নেন যথাক্রমে (দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম) কবি জেসমিন আক্তার, হারুণ অর রশীদ, কবি নূর হাসনা লতিফ এবং কবি জেবুন নেসা হেলেন। কাব্যলোকের কবি তাহমীদুল ইসলামের জন্মদিন উপলক্ষে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর মধ্য দিয়ে শেষ হয় কাব্যলোকের ১৯মত কাব্যপাঠ-এর আসর। পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন ফরহাদ হোসেন ও ফরিদা ইয়াসমিন। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলো ইউনিভার্সাল ওপেন রোভার স্কাউট গ্রুপের সদস্যরা।

 

নিউজজি/এসএফ

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2016 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers