বুধবার, ২৪ জানুয়ারি ২০১৮, , ৬ জুমাদিউল আউয়াল ১৪৩৯

সাহিত্য
  >
কবিতা

মীর রবির জোড়া কবিতা

 জুলাই ১২, ২০১৭, ১৮:১২:০৮

  • মীর রবির জোড়া কবিতা

প্রে ফর গড 

বাবা কুরআন পড়েন, আমি তার পাঠ শুনি

কবিতা আবৃত্তির মতো ধ্বনিত হয় তার সুর

আমি অবাক হই, সুর গিলি, সুধা পাই

বাবার সুরা পাঠে, আমাকে মদিরার নেশা ধরে, 

আমি শরাবে ডুবে থাকি। শবযাত্রায় ঘুম যাই, ওরা হাসে, হাসে হুর। 

বাবা কাঁদেন, কুরআন পড়েন, আমি মোহগ্রস্ত হই। 

ফেরেস্তারা আপ্লুত হন, মুনকার নাকির ফিরে যান বিনা প্রশ্নে। 

আমার হাত, আমার পা, আমার কপাল- নূরের ঝলকে আলো ছড়ায়, নিমপাতা, বেলপাতার নির্যাসে সুরমার গন্ধ ছড়ায়। বাবা সুর করে কুরআন পড়েন, আমি মূর্ছা যাই। কপাল ছোঁয় হুরের ঠোঁট, আমি সম্বিত ফিরে পাই- আজ সিজদায় ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম! কানে আসে মুয়াজ্জিনের ডাক- আস্ সালাতু খাইরুম মিনান্নাউম...

২.

ওল্ড হিস্ট্রি 

যে পথটায় রোজ বাড়ি ফিরতাম, সে পথেই বরফ জমে থাকত শীতে। বর্ষা এলে জলে ডুবে যেত । এখন বর্ষা কিংবা শীত, এ দুটোর একটাও আসে না এ গাঁয়ে। আমাদের উঠোনের বাবলা গাছটায় ফিঙেরা গল্প করত, তারা গল্প ভুলে কোথায় যে হারিয়ে গেল! সেই শোকে গাছটা এখন বৃদ্ধ। মাচানে সবুজে ছেয়ে থাকা আঙুর গাছটাও মরে গেছে গত শীতে। আঙুরগুলো টক ছিল, তার পরও শোক হয় তার জন্য। আঙুর পেলে খুশি হত লী গোমেজ, চুমুতে ভরে দিত নরম গাল। চুমুর আশায় কত আঙুরই সে পেল, চুমু পেলেও আমার আর তার হওয়া হলো না। 

বর্ষা, হাঁটু কাদা ডিঙানো মেঠোপথ, শীত বরফকুচি, বাবলা গাছের ফিঙে, নেতানো আঙুর, লীর কমলাঠোঁট, এসব ভাবতে ভাবতে ইদানীং হামিংবার্ড হয়ে যাই। শিশু হতে ইচ্ছে হয়, ছোটবেলায় কত ছোটই না ছিলাম আমরা!

নিউজজি/এসএফ

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2016 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers