বুধবার, ২৪ জানুয়ারি ২০১৮, , ৬ জুমাদিউল আউয়াল ১৪৩৯

সাহিত্য
  >
কবিতা

সুমন মাহমুদের ৫টি কবিতা

 জুলাই ৮, ২০১৭, ১৬:১২:৩২

  • সুমন মাহমুদের ৫টি কবিতা

বিদেশি বন্ধুর জন্য

ভালোবাসা সেই বন্ধুটার জন্য 

যে কিনা বিদেশে থাকে,

আগুনদৃষ্টি কালো বেড়ালের চোখে চোখ রেখে

যে কিনা পূর্বজন্মের গল্প শোনাতে ভালোবাসে

কবে কখন সে নারিকেলের শাঁসে রেখেছিল ঠোঁট

সেই চোট নিয়ে সে বুকভরা গল্প শোনায় ভারাক্রান্ত যুবরাজের কাছে

প্রিয় স্নিকার্স জোড়া হারিয়েছে যে কিনা আটলান্টিকের ভাগ্যরেখা বরাবর হেঁটে যেতে যেতে, সঙ্গী তার প্রিয় কালো বেড়াল

একদিন যে জানতে চেয়েছিল পাশের বস্তির উদাস রিকশাওয়ালার হারানো প্রিয়তমার গল্প

একদিন যে আস্তিনে গুটিয়ে রেখে মৃত্যুকে

মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাচীর হতে চেয়েছিল পুনর্মিলনের উৎসবে

স্নিকার্স হারিয়েও যে কিনা সাত শ মাইল হেঁটেছিল নিভৃতবাসে থাকা বাইসাইকেলটার পাদপৃষ্ঠে আরোহণের দম ফুসফুসে ভরে

যেদিন তার প্রিয় মানুষটার হাতে বানানো কফির তৃষ্ণা পেত

সেদিন সে মায়ের ভালোবাসা আকণ্ঠ পান করে 

চাঁদের নীচে উতলা হয়ে ওঠা মন্দিরটার ঘণ্টাধ্বনি বরাবর 

এগিয়ে যেতে যেতে প্রিয় অ্যাকুরিয়ামটার কথা মনে করত খুব

মনে হতো- অ্যাকুরিয়ামে ভরা মাছগুলো এই যে এতগুলো জন্ম পেরিয়েও নিষিদ্ধ জলে সংসার পাতে, তার কোনো গল্প আছে কি না জানা দরকার। 

মনে পড়ে- মায়ের কাছে উল বোনা শিখেছিল সেও একদিন, ট্রেনে বসে উল বোনায় নিমগ্ন তরুণী তা জানতে চাইবে কি কখনো?

জানতে না চাক, সে তো তরুণীর নিমগ্ন দৃষ্টি বুকপকেটে ভরে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার ওয়াইনে চুমুক দিতে জানে

প্রিয় বন্ধুর কনসার্টের দিকে যেতে যেতে যার শরীরের অন্তর্জালজুড়ে উত্তুরে হাওয়ার হাতছানি খেলা করে, আমার দ্রাঘিমাংশে তার জন্য সুনিপুণ বেহালাধ্বনি পুষে রাখতেই পারি...

২.

সানন্দা, তোকে বলছি

সানন্দা, প্রিয় বান্ধবী আমার

তোকে নিয়ে সমাজে এত কথা হয় কেন!

তোর সাথে আমার প্রেম আর 

আমার সাথে তোর ভালোবাসা

এখানেই তো ছিল মিশে একটা আগুন

আমরা সেই আগুন পুষে রেখে

দুদিকে সরে গেছি;

তার পরও কেন এত বৃত্তবন্দি করবার আয়োজন!

সানন্দা, প্রিয় আত্মার অনুরণন আমার 

জন্মান্তর নিয়ে যারা আছে, থাকুক

তোর জন্য আমি ভালোবাসার রক্তপ্রপাত

তুই দুঃখবিলাসী হ।

দুঃখবিলাসী মন তোর, প্রতিদিন

জন্ম দিয়ে চলেছে কান্নাজীবন,

জীবন নিয়ে ভাঙচুর আর আমাকে মানায় না;

তুই নিপুণভাবে জন্ম দিতে জানিস জীবনগন্ধী রামায়ণ

আমি তার কোনো চরিত্রেই থাকতে পারিনি। 

৩.

আত্মহত্যাপ্রবণ

আত্মহত্যার সমস্ত গুণাগুণ জেনেই আপনাকে লিখছি-

আপনার পাঠ্যতালিকায় যে কাপুরুষ শব্দটা অন্তর্ভুক্ত আছে

সেই সিলেবাসে দুর্মর ভালোবাসার গল্প স্থান পায়নি কখনো

জানালার গ্লাসে যে মুখটা দেখছেন, ভোরের কাছাকাছি সময়গুলোতে

সেটাই বড় হিংস্র হয়ে ওঠে

মৃত্যুময় দিনের গল্প বলতে বলতে, মুখটা এগিয়ে যেতে থাকে বিক্রির আশায়

ক্ষুধাকাতর দিনগুলোতে প্রেম সমীচীন নয় জানেন আপনিও 

অথচ প্রেমের জন্য তখন আপনি আত্মহত্যাপ্রবণ হয়ে ওঠেন

প্রেম আর ক্ষুধার দ্বন্দ্বে আত্মহত্যার গল্পই প্রথম মনে পড়ে

৪.

মৃত্যু পাহারার বয়ান

তবু বিষাদিত শূন্যতায় একলা হেঁটে চলার মুহূর্তগুলো বালিয়াড়ির তেতে ওঠা নিয়ে পক্ষীপ্রাণ হয়ে যায়। সীমান্ত পেরিয়ে লালদাগের আঁচড় বুকে বাজিয়ে, লোপাট করে সীমান্তজাহাজ, হতচকিত আড্ডায় কেউ ফিরতে পারবে সংবাদ পাওয়া গেছে। কানে কানে হেডফোন উপচে বেরিয়ে আসা বিষণ্ন সংবাদ আহ্লাদিত পায়রার মতো মৃত্যুতৎপর জানালা খুলে দেয়। মৃত্যু নিয়ে যারা ঘুমহীন পাহারায় থাকে তাদের জন্য অর্কিডের পরাগায়ন দরকার বারংবার। কারণ, অর্কিডও জানে মৃতজীবীরা মৃত্যু পাহারায় বসে থাকে। ঘুমের ঘোরে হেঁটে চলা আর মৃতজীবীদের গান গাওয়া সমান কথা নয় কখনো।

৫.

পানামনগর, তোমাকে...

কত কিছুই তো ঘটবে তোমার সাথে

সিগারেটের ধোঁয়া ওড়াতে ওড়াতে তুমি মারা যাবে

রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে তুমি মারা যাবে

ভালোবাসায় ক্ষয় হতে হতে তুমি মারা যাবে

লিফটে নামতে নামতে তুমি মারা যাবে

চলে যাওয়া প্রেমিকার মুখ আঁকতে আঁকতে তুমি মারা যাবে

শহরের উঁচু ছাদে দাঁড়িয়ে হাওয়া মাখতে মাখতে তুমি মারা যাবে

পুরোনো মিথ নিয়ে ভাবতে ভাবতে তুমি মারা যাবে

পানামনগরের বিকেলে বসে তুমি মারা যাবে

সস্তা হোটেলে খাবার খাওয়ার লোভে তুমি মারা যাবে

বৃষ্টিস্নাত ফুটপাত হয়ে তুমি মারা যাবে

পুরোনো নগরীতে ঢুকে যখন তোমার মনে পড়বে 

তুমি এই রাজ্যে একদিন বিচ্ছেদধ্বনি শুনেছিলে

তখন তুমি মারা যাবে

নিউজজি/এসএফ

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2016 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers