বুধবার, ২৪ জানুয়ারি ২০১৮, , ৬ জুমাদিউল আউয়াল ১৪৩৯

সাহিত্য
  >
কবিতা

শঙ্খচূড় ইমামের পাঁচটি কবিতা

 জুলাই ৩, ২০১৭, ১৬:৪০:৪৩

  • শঙ্খচূড় ইমামের পাঁচটি কবিতা

১.

মেলে দাও

আমি বলছি—

খোলো তোমার আলো

সীমাহীন লালচে আলো

জ্বলুক নীল রক্তের চিৎকার

ঢেউয়ের মতোন আঘাত হানতে হানতে

গভীর খাদে ঢুকে

নিয়ে আসো পিচ্ছিল কোনো প্রাণীর

মুখভর্তি বিদ্যুৎ ও ক্ষুধা।

কিংবা খোলো—

দরজার আড়ালের সঙ্গে

ঈশ্বরের উৎসবে।

বলছি— মেলে দাও

সেইসব পাখনা

যার ব্যাকরণে জমা করছো

নিজস্ব ঐশ্বর্য।

২.

মূলত

যার নিভে যায়

সে  বোঝে—

নীলাভ শিখাও

কতটা মুখ্য

যদি পায়রা উড়ে যায়

কিংবা নাচঘরের মিউজিক থেকে

ভেসে আসে সমূহ বিলাপ

তবে জেনে রেখো-

মানুষ মূলত

বেঁচে থাকে এসবের প্রেমে।

তোমরা তাদের আগুন নিভিয়ে

খামোখাই জ্বালিয়ে দিচ্ছো

ইন্দ্রীয় উৎসব!

৩.

ইদানীং

ইদানীং সাদা-কালো একটি গাড়ি

স্বপ্নে আসে এবং

আমাকে নিয়ে যায়

সমুদ্রের কোল ঘেঁষে।

বৃহৎ কোনো আসরে নামিয়ে

অপেক্ষা করে ফেরার

আয়োজন ভেঙে গেলে

ফসলের যত্নে পৌঁছে দেয় কামরায়

আমি ভেতরে উঠলেই

চমকে যাই এবং

বাজতে থাকে রহস্য-মিউজিক

কী এক তন্দ্রা থেকে

চিনিয়ে নেয় প্রাণের নৃত্য!

কখনোই গাড়িটির হর্ন বাজেনি

এবং জ্বালাতে দেখিনি

হলুদ লাইট।

৪.

প্রতিক্রিয়া

তোমাদের ফিরিয়ে দিয়েছি—

মৃতনদীর নাভীপাড় এবং

সেইসব উৎস থেকে

যে-সকল শাঁস বহন করছো

তার আদতে কোনো জৌলুস নেই।

আমি তো জেনে গেছি

পৃথিবী ভরে গেছে সাইকেলজ্বরে

এবং অদ্ভুত রহস্যের চাবিতে

একে একে খুলছে

হিংস্র তালা।

তোমরা মূলত বাথটাবের দীর্ঘ ব্যথা

ভোরের দিক প্রান্ত রেখে

এসবের পিছনেই হাঁটছো।

আমি তোমাদের

এভাবেই ফিরিয়ে দিই—

৫.

দৌড়

দূরে দাঁড়িয়ে খবর নিয়েছি

তোমাদের জ্বেলে রাখা

উপ-বাতির কান্না।

সেখানে এখন আর

জোনাক পোকার পাখা নেই

আওয়াজ নেই চমৎকার

বাদুরের

কেবল একটা আলোর

চারপাশ ঘিরে

দৌড়াচ্ছো নিজেদের দিকে

আর আলোটা অতিক্রম করছে

তোমাদের।

নিউজজি/এসএফ

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2016 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers