বুধবার, ২৪ জানুয়ারি ২০১৮, , ৬ জুমাদিউল আউয়াল ১৪৩৯

সাহিত্য
  >
কবিতা

আশরাফ জুয়েলের ৫টি কবিতা

 জুন ২১, ২০১৭, ১৭:০৭:৫১

  • আশরাফ জুয়েলের ৫টি কবিতা

১.

হৃৎপিণ্ডে একখণ্ড মুখ

বিকেলের প্রচ্ছদে একাকী দাঁড়িয়ে থাকে

ছায়া-ঘোলাটে আগন্তুক।

সন্ধ্যার দেবতা ঋষি-ক্লান্ত মুখে আঁকে 

শ্মশানের গভীরতা এবং ধ্যানরত মৃতদের ছক।

হৃৎপিণ্ডে একখণ্ড মুখ দাও! প্রভু।...

উড্ডীন ডানাদের গোধূলি ভাঙা ঘোষণায়

হাবশী মেঘ নতশির।

কাগজের পাহাড়। গভীর স্বাদ-টইটম্বুর-

চৌচির।

অকস্মাৎ বৃষ্টি এলে দেবতারাও 

পাগল জন্ম ফিরে পায়।

স্রোতে ভেসে যাওয়া হাঁড়ি থেকে বেরিয়ে আসে

সৎকার ফেরত অস্থি-ভস্ম-ছাই।

২.

পাশ ফিরে শোয়া

পাশ ফিরে শোয়ার সময়গুলো পেছনে ফেলে 

যেসব রাত এগিয়ে গেছে ম্যাচুরিটির দিকে;

সেখানে একটি পাখি, সেখানে দুইটি পাখি।

তারপর কিচির মিচির, তারপর কিচির মিচির।

মধ্যবয়স্ক শ্বাসের সম্মুখে বহুবিধ নদী-

আগলে রাখে পাখিদের, আগলে রাখে কিচির মিচির।

ঝরে পড়ার পূর্বে শ্বাসে-নদীতে সখ্য।

ঝরে পড়ার আগে নদীতে-শ্বাসে পরস্পরের নির্ভরতা।

পাশ ফেরা!

মুখোমুখি ওম ভাগ করো

পাখিদের উড়ে যাওয়া অবধি, নতুন

কিচির মিচিরে রাতের নিস্তব্ধতা খান খান

হয়ে না পড়া অবধি।

৩.

একটা উজ্জ্বলতম ভোরের জন্মগ্রহণ 

বেহালার মদ শেষ করে শহর ঘুমোতে যাওয়ার যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করতেই আচমকা একটা পাগলা হাতি নেমে আসে অন্ধকারের অরণ্য ভেদ করে। সামনে যা কিছু আসে পাগলা হাতি তা পিষে দিতে থাকে চরম নির্মমতায়; নারী-নাবালক-সভ্যতা নির্বিশেষে।

উপশহরের দিকে ঢলে পড়া কুঁড়েঘর থেকে এক দেবশিশু পাগলা হাতির সামনে এসে দাঁড়ায়। তার এক হাতে মানচিত্র, অন্য হাতে অপ্রতিরোধ্য দেহ; সে চিৎকার করে বলে, ‘সাহস থাকলে এগিয়ে আয়!’ পাগলা হাতি পিছু হটে। ফিরে যায় অন্ধকারের অরণ্যে। শহর পুনরায় ঘুমের ভেতর ডুব দিয়ে অনেক-অনেক পায়রা উড়ে যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর থাকে।

একটা উজ্জ্বলতম ভোরের জন্মগ্রহণ পদ্ধতি শেষ হয় এভাবেই।

৪.

পুরুষ

আমার আব্বায় কয়,

‘আয় বাপ আমরা নিজেগোরে অদলবদল

কইরা ফালাই’

আমি কই আব্বা, দাদায় যখন কইছিল

তুমি কি রাজি হইছিলা?

আব্বায় কয়, ‘না।’

আমি আর আব্বা পাশাপাশি বইসা থাকি।

আব্বায় দাদার মুখটা মনে করবার চেষ্টা করে,

আর আমি চাইয়া থাকি আমার পুলার দিকে।

৫.

মৃত্যু

মৃত্যু চিন্তায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়লে

নদীর কাছে এসে দাঁড়াই, আমার নিজস্ব নদী - 

এক এক করে অস্বস্তির মুদ্রাগুলোকে ছুঁড়ে 

মারি কল্পিত গভীরে।

অবাক ঝড় ওঠে - ভাসিয়ে নিয়ে যায়, 

উড়িয়ে নিয়ে যায় আমাকে কোনো এক 

অপ্রস্তুত দ্বীপে।

পরিশ্রান্ত জীবন থেকে অবসর নেয়া 

আমি দ্বীপবাসীর সঙ্গে হাত লাগাই - 

অনেক অনেক নির্মাণ বাকি!

হাজার বছরের নির্মাণ শেষে প্রার্থনার ঢঙে

বসে পড়ি– ‘প্রভু্ ! আমাকে প্রজাপতির 

মৃত্যু দাও, কিম্বা ঘাস ফুলের বা 

পানকৌড়ির মৃত্যু দাও!’

নিউজজি/এসএফ

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2016 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers