সোমবার, ২২ জানুয়ারি ২০১৮, , ৪ জুমাদিউল আউয়াল ১৪৩৯

ফিচার

কোথা থেকে এলাম (দ্বিতীয় পাতা)

স্যামুয়েলের ডায়রি থেকে জানুয়ারী ১১, ২০১৮, ১৪:৩৯:৩৫

  • কোথা থেকে এলাম (দ্বিতীয় পাতা)

ভাবতে থাকি প্রতিটি মানুষ নিশ্চয়ই আমার মতো অনুভব করে। প্রতিটি ম্যাটার এনার্জি নিয়েইতো প্রকৃতি। তবে কেন নিজেকে এই বিশালত্ব হতে আলাদা ভাবে আলাদা ভেবে চলা। তারপরও সে তো প্রকৃতিরই অংশ। হয়তো তার ভিতর হাজার ধরণের বিশ্বাস ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে এবং ছোটবেলা থেকে এত 

নির্দয়ভাবে বিশ্বাস ভেঙ্গেছে যে, নিজের আত্মবিশ্বাস হারিয়ে এখন কুসংস্কার এ নিমজ্জিত। নিজের দেহটা কিভাবে কাজ করে বুঝতে পারলেই সবই তার কাছে পরিষ্কার হয়ে যাওয়ার কথা। এই দেহটাতে কত কি ঘটে কখনও আগ্নেয়গিরি, কখনও ভূমিকম্প, কত রসায়নের রূপান্তর চলতে থাকে। হয়তো এই রসায়নের রূপান্তরের বিকার আমরা আমাদের মাঝে অনুভব করি। প্রতিটি মানুষ এবং প্রতিটি প্রাণ, চেতন এবং অচেতনের চিত্ত এক হয়ে একটি সমাজ দেহ তৈরি হয়। এই সামাজিক দেহ ভিন্ন ভিন্ন অবস্থায় পরিবার হতে রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হয় এবং তা থেকে জটিল রাষ্ট্রপুঞ্জ। ব্যবসায়িক সম্পর্ক, মানবিক, ক্ষমতা, প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য, সাংস্কৃতিক, বিজ্ঞানের, জ্ঞানের আদান-প্রদান সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করে। এসব মিলে একটি মানুষিক অস্তিত্বের বিশ্ব সৃষ্টি হয়।

দেহের ক্রোমোজোম এক্স-ওয়াই মিলে ছেলে, এক্স এক্স মিলে মেয়ে, আবার ছেলে-মেয়ের মাঝামাঝি কমন জেন্ডারও সৃষ্টি হয়। একই পরিস্থিতি হতে তিন ধরনের পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটে। ক্রোমোজোম বহন করা তথ্য নতুন পরিস্থিতির নিকট হস্তান্তর এবং হস্তান্তর প্রক্রিয়া নিরবচ্ছিন্ন রাখা সুনিশ্চিত করে। ডিএনএ নামক ঘর বানানোর দুর্গ গড়ে তোলার তথ্যও নিয়ে আসে। এভাবে একটি স্থিতিশীল অস্তিত্ব তৈরি করে। এই অস্তিত্বের কর্মকাণ্ড চালনা করতে গিয়ে, ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন কোষের সংকেত আদান-প্রদান করতে গিয়ে যে নয়েজ তৈরি হয় তা মস্তিষ্ক বিচার বিশ্লেষণ করে আমাদেরকে একটি সম্ভাব্য প্রেজেন্টেশন প্রকাশ করে। সেই প্রকাশই হল মানসিক অস্তিত্ব।

বিশ্বে ফিজিক্যাল বা শারীরিক উপস্থিতির পাশাপাশি মানসিক বিশ্ব তৈরি হয়। দৈহিক বিশ্বের সকল কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয় মানসিক বিশ্বের নির্দেশে। প্রকৃতির মতোই মানসিক বিশ্ব নিশ্চয়তা অনিশ্চয়তার সূত্র ধরে চলতে থাকে। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন পরিস্থিতির উদ্ভব করে। ক্ষুদ্র সার্কেল দিয়ে শুরু হয়ে ক্রমান্বয়ে বিশ্ব সার্কেলে রূপ নেয়। প্রতিটি সার্কেলের ক্ষুদ্র পরিস্থিতি থেকে শুরু করে বিশ্ব পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই মানসিক পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য ক্ষুদ্র সার্কেল হতে শুরু করে শক্তিশালী সার্কেলগুলো দ্বন্দ্ব-সংঘাতে লিপ্ত হয়। যুদ্ধ পরিস্থিতি, বিশ্ব বিবেক জাগ্রত করা, প্রাকৃতিক পরিবেশ সুরক্ষা, শান্তি চুক্তি, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মতন্ত্র এগুলোর নামে আড়ালে মুখোশে উদ্দেশ্য একটাই। একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা। যদিও প্রকৃতির নিয়মে এটা কখনই সম্ভব না। আবার প্রকৃতির নিয়মই এই টানাপড়েন সৃষ্টি করা। এই টানাপড়েনের মাধ্যমেই প্রকৃতি বিকশিত হয়। মানসিক বিশ্ব বিকশিত হয়। এবং টানাপড়েনও চলতে থাকে।

নতুন নতুন পরিস্থিতি উদ্ভবের জন্য কিন্তু একক নিয়ন্ত্রণ কখনও সম্ভব হয় না। কারণ পুরো কাঠামো তৈরি হয় যৌথভাবে। দেহে যেমন ইনসুলিন নামে রাসায়নিক আছে যা প্যানক্রিয়াজের মধ্যে ছোট ছোট কোষগুচ্ছের মধ্যে উৎপাদিত হয়। পলিপেপটাইড নামে একটি শিকলের মতো দেখতে একান্নটি অ্যামিনো অ্যাসিড দ্বারা গঠিত। এই কোষগুলো যখন অলস হয়ে যায় অর্থাৎ প্রয়োজন অনুযায়ী ইনসুলিন যোগান দিতে অসমর্থ হয় তখন শরীরে ডায়াবেটিস দেখা দেয়।

দেহের প্রতিটি কোষ এর সমন্বিত প্রচেষ্টার ফসল হল অস্তিত্ব সুস্থ থাকা। কয়েকটি কোষগুচ্ছ কাজ কমিয়ে দিলে শরীর অসুস্থ হয়ে যায়। আবার কোষগুচ্ছ কাজ অতিরিক্ত বাড়িয়ে দিলে হয় ক্যান্সার। লক্ষ্য করেছেন, যৌথভাবে কাজ না করলে দেহ কোনো অবস্থায় সুস্থ থাকবে না।

কাজেই নিশ্চিতভাবে বলা যায়, বিশ্ব মানসিক পরিস্থিতি যৌথভাবে নিয়ম মতো কাজ না করলে হয় ডায়াবেটিস নয় ক্যান্সারসহ হাজার ধরনের রোগ ব্যাধি সমাজের দেহে সৃষ্টি হতে বাধ্য। যেহেতু প্রকৃতি চলে যৌথভাবে, বিশ্বের মানসিক পরিস্থিতি যৌথভাবে চালাতে হবে। (চলবে)

 

 

নিউজজি/এক্স

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2016 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers