মঙ্গলবার, ২৩ জানুয়ারি ২০১৮, , ৫ জুমাদিউল আউয়াল ১৪৩৯

ফিচার

পথের মোড়ে শীতের পিঠা, যেন শহরে এক খণ্ড গ্রাম

নিউজজি ডেস্ক জানুয়ারী ৯, ২০১৮, ১৩:০২:০৯

  • পথের মোড়ে শীতের পিঠা, যেন শহরে এক খণ্ড গ্রাম

শীতে গ্রামে গ্রামে পিঠা-পুলি তৈরির ধুম পড়ে যায়। আর শহুরে জীবনে এই আনন্দ অনেকটাই মলিন হলেও শীতে রাজধানীর ফুটপাথে পিঠার দোকান নিয়ে বসেন অনেকে। সন্ধ্যার পর হরেক রকম পিঠার স্বাদ আর গন্ধ মুগ্ধ করে নগরবাসীকে। এই পিঠা তৈরি করেই শীতের সময় অনেকে সংসার চালান। তারা প্রতিদিন তৈরি করেন ভাপা পিঠা, পুলি পিঠা, তেল পিঠা ও চিতই পিঠাসহ আরো নানা রকমের পিঠা। 

মৌসুমী পিঠা ব্যবসায়ীরা মোড়ে মোড়ে ভাপা পিঠার দোকান নিয়ে বসে পড়েছেন। আর সাধারণ মানুষও খাচ্ছেন এসব ধোয়া-ওঠা গরম পিঠা। অনেকেই মৌসুমী এই ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। তেমন একটা পুঁজি লাগে না বলে সহজেই এ ব্যবসা শুরু করা যায়। জ্বালানি হিসেবে খড়ি, অকেজো কাঠের টুকরা, কিংবা গাছের শুকনা ডাল ব্যবহার করছেন তারা। কিছু গুড়, আটা, নারিকেল নিয়ে খুলে বসেছেন মৌসুমী ব্যবসা। 

গ্রামের বাড়িতে শীতের পিঠা পুলি তৈরি হলেও নগর সভ্যতার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। শহরে যাদের বসবাস নাগরিক ব্যস্ততার কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ঘরে বানানো পিঠা খেতে পারেন না তারা। তাই রাস্তার মোড়ে মোড়ে জমে ওঠা বাহারি পিঠার দোকানই তাদের ভরসার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবার জীবিকার জন্য যারা শহরে এসে রিকশা, অটোরিকশা, ব্যাটারি চালিত গাড়িসহ শ্রমিকের কাজ করছেন তারাও পরিচিত পিঠার এসব দোকানে ভীড় জমাচ্ছেন।

কোনো কোনো দোকানি প্রতিদিন দুই থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করে থাকে। যেদিন খুব কম বিক্রি হয় সেদিনও এক হাজার টাকার বেশি বিক্রি হয়। বিকেল থেকে শুরু হয় বেচাকেনা, চলতে থাকে রাত ১১টা পর্যন্ত। এসব তথ্য উঠে এসেছে কয়েকজন দোকানির মুখ থেকেই। 

ফাস্টফুড সংস্কৃতির এই যুগেও শীতের গরম পিঠার জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলেছে। নগরের বিভিন্ন এলাকার ফুটপাতে গড়ে ওঠা মৌসুমি পিঠাপুলির দোকানে ক্রেতাদের ভিড়ই তার বড় প্রমাণ। বিকেল হতেই দোকানিরা তাঁদের পিঠার পসরা বসান ফুটপাথে কিংবা অলি-গলিতে। উনুনে আগুন জ্বেলে একের পর এক পিঠা বানাতে ব্যস্ত থাকেন তাঁরা। অন্যদিকে ক্রেতারা গরম গরম পিঠা সাবাড় করতে থাকেন।

মহানগরে বসেও গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এই খাবার উপভোগ করার সুযোগ হাতছাড়া করতে চান না অনেকে। এসব দোকানে পাঁচ টাকায় চিতই, তেলের পিঠা ও পাঁচ থেকে ১০ টাকায় ভাপা পিঠা পাওয়া যায়। চিতই পিঠার সঙ্গে সর্ষে, ঝাল ও শুঁটকি ভর্তার পাশাপাশি আট থেকে ১০ ধরনের ভর্তা মেলে ফ্রিতে। 

মৌসুমি এই পিঠা তৈরি ও বিক্রি করতে দোকানিরা বেশ উপভোগ করেন। রাজধানীর ধানমণ্ডি ৩২, সোবাহানবাগ, কলাবাগান, কারওয়ানবাজার, ফার্মগেট, কাজীপাড়া, মিরপুর, মহাখালী, বাংলামোটর, শাহাবাগ, টিএসসির মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে রাস্তার ফুটপাতে প্রায় মোড়ে শীতের সন্ধ্যায় মানুষ আয়েশ করে পিঠা খেতে যান। এ ছাড়া পুরান ঢাকার নাজিরাবাজারেও রয়েছে বেশ কিছু পিঠাপুলির দোকান। 

ছবি – মীর ইসলাম।  

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2016 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers