মঙ্গলবার, ২৩ জানুয়ারি ২০১৮, , ৫ জুমাদিউল আউয়াল ১৪৩৯

ফিচার

বায়স্কোপের নেশা আমায় ছাড়ে না

নিউজজি ডেস্ক জানুয়ারী ৮, ২০১৮, ১৬:২৯:৪২

  • ছবি – মহিউদ্দিন পাটোয়ারী

তোমার বাড়ির রঙের মেলায় দেখেছিলাম বায়স্কোপ, বায়স্কোপের নেশা আমায় ছাড়ে না। কবি কামরুজ্জামান কামুর লেখা এই গান গেয়েছিল দলছুট ব্যান্ড। গানের মতোই সত্য এই নস্টালজিয়া। দিন চলে গেছে বহুদূর, তবু বায়স্কোপের স্মৃতি আজো আমাদের কাতর করে দেয়। কোথায় হারালো সেই বায়স্কোপওয়ালা? 

এক সময় গ্রামের পথে পথে কাঁধে বাক্স নিয়ে বায়স্কোপওয়ালা আসতো।  ছেলে-মেয়ে, বুড়ো সবাই মিলে দেখতো একটা বাক্সের মধ্যে সুন্দর করে পোষ্টার ছবি সাজানো বায়োস্কোপ। গ্রামাঞ্চলে বায়োস্কোপ নামে ভ্রাম্যমান সিনেমা হলের ছবি। গ্রামের শিশুরা ছুটতো তার পেছনে পেছনে। বায়োস্কোপওয়ালা ডুগডুগি বাজাতে বাজাতে গ্রাম্য পথে হাটত। দল বেঁধে সবাই একখানে জড়ো হতো গ্রামের শিশু- কিশোর এমনকি গৃহবধূরাও। তারপর শুরু হতো সিনেমার প্রদর্শনী। তার আগেই টিকিট কেটে নিতে হতো। বাক্সের চারখানা ফুটোয় আট জোড়া চোখ লাগিয়ে সেই স্বপ্নের সিনেমা দেখতো গ্রামের মানুষ। ভিডিও সিডি, ডিভিডি আর টেলিভিশনের কারণে সে সবই এখন সুদূর অতীত। মনে পড়ে, পড়ে না। তবে এখন আর খুঁজেও পাওয়া যায়না সেই ছবিওয়ালাকে। কোথায় গেল তারা।

বায়োস্কোপের সাথে বাঙালিকে পরিচয় করিয়ে দেয়ার কিছু নেই। বিশেষ করে গ্রামবাংলার জনপদে বেড়ে ওঠা মানুষকে তো বটেই। তবে যারা শহরের চার দেয়ালের মধ্যে বন্দী জীবনযাপন করে অভ্যস্ত কিংবা যাদের জন্ম এইমাত্র একযুগ আগে তাদের কাছে হয়তো হাস্যকর এক বোকা বাক্স মনে হবে। কিন্তু বায়োস্কোপ মোটেও হাস্যকর কোনো বস্তু ছিল না কিংবা ছিল না কোনো বোকা বাক্সও! প্রকৃতপক্ষে বায়োস্কোপ গ্রামবাংলার সিনেমা হল। রঙ-বেরঙের কাপড় পরে, হাতে ঝুনঝুনি বাজিয়ে বিভিন্ন রকমের আলোচিত ধারা বর্ণনা করতে করতে ছুটে চলত গ্রামের স্কুল কিংবা সরু রাস্তা ধরে। হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মতো তার পেছন পেছন বিভোর স্বপ্ন নিয়ে দৌড়াত গ্রামের ছেলেমেয়েরা। বায়োস্কোপওয়ালার এমন ছন্দময় ধারা বর্ণনায় আকর্ষিত হয়ে ঘর ছেড়ে গ্রামের নারী-পুরুষ ছুটে আসত বায়োস্কোপের কাছে। একসাথে সবাই ভিড় জমালেও তিন কী চারজনের বেশি একসাথে দেখতে না পারায় অপেক্ষা করতে হতো। সিনেমা হলের মতো এক শো, এরপর আবার আর তিন বা চারজন নিয়ে শুরু হতো বায়োস্কোপ। 

বায়োস্কোপ দেখানো শুরু করলেই ‘কী চমৎকার দেখা গেল’ বলে ফের শুরু হতো বায়োস্কোপওয়ালার ধারাবিবরণী। আর এই বায়োস্কোপ দেখানোর বিনিময়ে দুই মুঠো চাল কিংবা দুই টাকা নিয়েই মহাখুশি হয়ে ফিরে যেত বায়োস্কোপওয়ালা। কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে বাংলার বিনোদনের এই লোকজ মাধ্যমটি। টিভি আর আকাশ সংস্কৃতি স্যাটেলাইটের সহজলভ্যতার কারণে আপনা-আপনিই উঠে গেছে বায়োস্কোপ। তবুও কোথাও না কোথাও একজন থাকে। তেমনি একজনের দেখা মেলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে। আর কে কোথায় আছে, কে জানে?

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2016 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers