মঙ্গলবার, ২৩ জানুয়ারি ২০১৮, , ৫ জুমাদিউল আউয়াল ১৪৩৯

বিনোদন

বাবার মুখে কবিতা শুনেই রবীন্দ্রনাথের সাথে প্রথম পরিচয়

নিউজজি প্রতিবেদক  জানুয়ারী ১৩, ২০১৮, ১১:৪৯:০০

  • শুভ জন্মদিন রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা

আজ ১৩ জানুয়ারি শনিবার প্রখ্যাত রবীন্দ্র সঙ্গীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার জন্মদিন। তিনি রবীন্দ্র সঙ্গীতের একটি বিশেষ ঘরানার জনপ্রিয়তম একজন শিল্পী হিসেবে ব্যাপকভাবে সমাদৃত। 

কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিষ্য এই শিল্পীর জন্ম রংপুরে। মা-বাবার উৎসাহে চাচা আবদুল আলীর কাছে গান শেখা শুরু করেন। পরে গান শেখেন ছায়ানটের ড. সনজীদা খাতুন ও আতিকুল ইসলামের কাছে। বুলবুল একাডেমিতেও গান শিখেছেন। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হওয়ার পর বন্যা উপলব্ধি করলেন, আসলে সঙ্গীতই তার মূল লক্ষ্য। তাই ভারত সরকারের শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে তিনি চলে যান রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত শান্তিনিকেতনে। সেখানে কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, নীলিমা সেন, শান্তিদেব ঘোষ প্রমুখের সানি্নধ্যে ও তত্ত্বাবধানে রবীন্দ্র সঙ্গীত শেখেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগে শিক্ষকতা করার পাশাপাশি তিনি সঙ্গীত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান 'সুরের ধারা' পরিচালনা করে আসছেন। ১৯৯২ সাল থেকে সুরের ধারায় গুরু-শিষ্য পরম্পরা বজায় রাখার মাধ্যমে রবীন্দ্র সঙ্গীতে দীক্ষিত করছেন বর্তমান প্রজন্মকে। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সঙ্গীতের মাধ্যমে শিক্ষাদান এবং জীবনমান উন্নয়নের জন্য 'উন্নয়নের জন্য সঙ্গীত' প্রকল্প নিয়েও কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার জন্মদিন উপলক্ষে আজ চ্যানেল আইয়ে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল।এ উপলক্ষে চ্যানেল আইয়ের ছাদ বারান্দা সকাল থেকেই বিশিষ্টজনদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। সেই সাথে চলে রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা ও সুরের ধারার শিল্পীদের গান।

বাঁশির সুরে শুরু হয়েছে অনুষ্ঠান। গাজী আব্দুল হাকিমের বাঁশির সুরের আচ্ছন্নতা কাটতে না কাটতেই রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যাকে জিজ্ঞেস করা হয় জন্মদিন সম্পর্কে। তিনি বলেন, ‘জন্মদিন হয় একজনের, কিন্তু আনন্দ সবার। আনন্দ কখনো একার হয় না। আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিলে বাড়ে।’ এরপর রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা ও সুরের ধারার শিল্পীদের সমবেত কণ্ঠে পরিবেশিত হয় অনুষ্ঠানের প্রথম গান।

জন্মদিনের এই বিশেষ দিনে রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা মনে করেছেন তার বাবা-মায়ের কথা। তিনি জানান, বাবা ছিলেন সরকারি চাকরীজীবী। মা স্কুল টিচার। বাবা খুবই রবীন্দ্র অনুরাগী ছিলেন। বাবার মুখে কবিতা শুনেই রবীন্দ্রনাথের সাথে প্রথম পরিচয়। যখন সঙ্গীত নিয়ে পড়তে যেতে চাইলেন, তখন বাবা একটু আপত্তি করলেও সমর্থন দিয়েছিলেন মা। গানকে পেশা হিসেবে বেছে নেবেন তা ভাবেননি কখনাে। গান যখন পেশা হয়েই গেছে, তখন বাবা-মা খুব সাপোর্ট করেছেন। না হলে এতদূর আসতে পারতেন না বলে জানান তিনি।

এরপর সুরের ধারার শিল্পীরা একাধিক গান পরিবেশন করেন। এক পর্যায়ে মঞ্চে আসেন রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার গুরু ভাই সাদী মোহাম্মদ। তিনি জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে বন্যাকে বলেন, দ্বৈত কণ্ঠে যত গান করেছি, বন্যার সঙ্গেই বেশি করেছি। আমি কামনা করছি দীর্ঘদিন যেন তার কণ্ঠ সতেজ থাকে। যতদিন তার কণ্ঠ সতেজ থাকবে, ততদিন তা আমাদের আনন্দ দিয়ে যাবে। এরপর এই দুই গুণী শিল্পী মিলে পরিবেশন করেন ‘অমল ধবল পালে’ গানটি।

এরপর অনুষ্ঠানে ফোন করেছেন কথা সাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন। তিনি শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘প্রতিটি সকাল শুরু হয় রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার গানে। তার গান জল তরঙ্গের মতো, শরতের আকাশের মতো মনে হয়।এভাবেই থাকুন, দীর্ঘজীবী হোন।’

গানে গানে সকাল শুরু’র বিশেষ এই পর্বে ফোন দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জাতি হিসেবে আমরা আপনাকে পেয়ে গর্বিত। আপনি আরো অনেকদিন রবীন্দ্র সঙ্গীত নিয়ে থাকবেন এই কামনা করি। আপনার কাছে আগামী প্রজন্ম শিখছে, নতুন প্রজন্ম গড়ে উঠছে, এটা আমাদের জন্য অনেক আশার।’

অনুষ্ঠানে রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা মনে করেন সেই দিনটির কথা, যেদিন জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে ‘গানে গানে সকাল শুরু’ অনুষ্ঠানে ফোন দিয়েছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১৫ সালের সেই দিনটি সবসময় স্মরণীয় হয়ে থাকবে তার কাছে।

পুরো অনুষ্ঠানে চিত্রশিল্পী আব্দুল মান্নান রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার জন্মদিন উপলক্ষে একগুচ্ছ রজনীগন্ধা ফুলের ছবি এঁকেছেন। অনুষ্ঠানের শেষে ছবিটি হস্তান্তর করার সময় শিল্পী বলেন, ‘একগোছা রজনীগন্ধা হাতে দিয়ে বললাম, শুভ জন্মদিন।’ কেক কাটা এবং ফুলের শুভেচ্ছার মধ্য দিয়ে শেষ হয় রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার জন্মদিনের প্রথম সকালের আয়োজন।

নিউজজি/একে/এমকে

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2016 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers