সোমবার, ২২ জানুয়ারি ২০১৮, , ৪ জুমাদিউল আউয়াল ১৪৩৯

অর্থ ও বাণিজ্য

পণ্যের বাজার রূপ নিয়েছে আনন্দবাজারে

নিউজজি প্রতিবেদক ২ জানুয়ারি , ২০১৮, ২১:১০:০৯

  • ছবি : নিউজজি

ঢাকা: শুরু হয়েছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা-২০১৮। পণ্যের প্রচার ও প্রসারই এ মেলার মূল লক্ষ্য। তবে মেলায় বিক্রিও হয় বেশ ভালো। দেশীয় বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বছর জুরে অপেক্ষায় থাকে এ মেলার। অপেক্ষায় থাকে ক্রেতারাও।

তবে একটা বিষয় কি? মেলা বলে কথা, এই মেলা শব্দটাই মানুষের মনে এনে দেয় বিনোদনের বিষয়টি। ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় কেনাকাটার সঙ্গে বিনোদনেরও সুযোগ রয়েছে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের।

এবারও বিনোদনের জন্য স্থাপন করা হয়েছে বিভিন্ন পার্ক। শিশুদের বিনোদনের জন্য স্থাপন করা হয়েছে মিনি শিশু পার্ক। শুধু শিশুদের জন্য নয়, সব বয়সীদের বিনোদনের জন্য রয়েছে ফ্যান্টাসি পার্ক। ঘুরে ঘুরে কেনাকাটা করে হাঁপিয়ে ওঠলেই মনে প্রশান্তি আনতে সেখানে যেত পারেন।

পণ্য আর ক্রেতাই এ মেলার প্রাণ। পণ্যের টানে ক্রেতা আসেন আর ক্রেতাদের সঙ্গে আসে আনন্দ। যান্ত্রিক শহরের এ রাজধানীতে মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলায় বসেছে আনন্দমেলাও। এ আয়োজনে অংশ নিয়ে দর্শনার্থীরা প্রাণের উচ্ছ্বাসে মেতে উঠছেন। পণ্যের বাজার রূপ নিয়েছে আনন্দবাজারে।

মেলার শুরুর দিন থেকে ভিড় জমাতে থাকেন ক্রেতারা। অনেকে দল বেধে আসেন মেলায়। কেনাকাটা না করলেও টিকিট কেটে মেলায় আসেন আনন্দ খুঁজতে। হাজার রকম পণ্যের সঙ্গে পরিচিতি হতে অনেকে দিনভর ঘুরতে থাকেন। মেলায় আসা ক্রেতারা যাতে সহসাই আনন্দ খুঁজে পান, তার চেষ্টা থাকে আয়োজক ও অংশ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যেও। তাই মেলার নকশায় প্রকাশ পায় বিশেষ নান্দনিকতা, স্টল-প্যাভিলিয়ন সাজানো হয় দারুণ সব নকশায়।

স্বপ্নের পদ্মা সেতুর আদলে এবার সাজানো হয়েছে মেলার মূল ফটক। এতে ঠাঁই পেয়েছে ‘ঢাকা গেট’র ঐতিহ্যও। উন্নয়ন আর ঐতিহ্যের প্রতিচ্ছবি এ গেটই মন কাড়ছে আগতদের। গেট পার হতেই ফুলের বাগান। বিশাল ফুলের বাগান ঘিরে বসার ব্যবস্থাও রয়েছে। ফুল বাগানে মন মিলিয়ে আনন্দে মেতেছেন দর্শনার্থীরা। শিশুদের জন্যও রয়েছে আনন্দমেলা।

হৈ-হুল্লোড় আর উচ্ছ্বাসে একটু বেশিই প্রাণবন্ত বাণিজ্য মেলার ছোট পরিসরের শিশুপার্ক। পার্কের এদিকটায় আসা শিশুরা কেউ এ সুযোগ যেন হাতছাড়া করতে রাজি নয়। মেলাপ্রাঙ্গণের পশ্চিম প্রান্তে ‘ইজি ফন ল্যান্ড’ শিশুপার্কটি মেসার্স অন্তরা এন্টারপ্রাইজের। পার্কের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা মো. মাসুদ জানান, মেলায় শিশুদের সময়টা যেন আনন্দে কাটে সে জন্য এ আয়োজন। পাশাপাশি বিভিন্ন পার্ক ও মেলায় রাইডের যন্ত্রপাতি-উপকরণ ও খেলনা বিক্রিসহ এসবের প্রচারণা চালান তারা।

তিনি আরো জানান, মেলায় শিশুপার্কের প্রতিটি রাইড বিদ্যুৎচালিত। প্রতিটি রাইড ৫-৮ মিনিট ধরে উপভোগ করতে পারবে শিশুরা। এবার তাদের মোট নয়টি রাইড রয়েছে। একটি ছাড়া বাকি সব রাইডের টিকিট মূল্য ৩০ টাকা।

মেলার পূর্বপ্রান্তে রয়েছে শারিকা ফ্যান্টাসি পার্ক। সব বয়সী ক্রেতা-দর্শনার্থীদের জন্য এ পার্কে ১০০ টাকার টিকিটে ৯-ডি মুভি দেখার সুযোগ রয়েছে। তবে এ পার্কে সব ধরনের রাইডের টিকিটের মূল্য ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ দর্শনার্থীদের। এ পার্কে ম্যাজিক বোট সাম্পান ও ওয়ান্ডার হুইলের টিকিটের মূল্য ৫০ টাকা। এছাড়া হানি সুইং এবং ট্রেনে চড়তে লাগবে ৪০ টাকা। এখানেও রয়েছে কিডস রাইডস, টিকিটের মূল্য ৩০ টাকা। এসব রাইডের চাহিদাও বেশ ভালো।

২৩তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার সমন্বয়ক বলেন, বাণিজ্য মেলা তো শুধু পণ্য বেচাকেনার জায়গা নয়। লাখো মানুষের মিলনমেলাও। যেখানে প্রাণ, সেখানে আনন্দ থাকবেই। মেলায় এসে যেন দর্শনার্থীরা বিরক্তভাব প্রকাশ করতে না পারেন, সে জন্য আমরা নানা আয়োজন রেখেছি। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও থাকছে এবারের মেলায়।

১ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এ মেলা চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এ মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত। মেলায় প্রবেশ টিকিটের মূল্য প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৩০ টাকা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ২০ টাকা।

 

নিউজজি/ এসআই

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

copyright © 2016 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers