বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, , ৪ জুমাদাউস সানি ১৪৩৯

শিল্প-সংস্কৃতি

বসন্ত-ভালোবাসা ও একুশকে রাঙাতে জমজমাট ফুলের বাজার

ফারুক হোসেন শিহাব ১৩ ফেব্রুয়ারি , ২০১৮, ১৯:৩৬:০৭

  • বসন্ত-ভালোবাসা ও একুশকে রাঙাতে জমজমাট ফুলের বাজার

প্রকৃতিকে রাঙাতে ব্যস্ত পলাশ, শিমুল আর কৃষ্ণচূড়া;  কচি সবুজ পাতা, বাহারি ফুলেরা বসন্তের রঙে রাঙিন করে তুলেছে প্রকৃতি। সেই রঙে কোকিলও মাতিয়ে তুলেছে কুহু... কুহু..... সুরবীণায়। আজ পহেলা ফাল্গুন। জীবনে আর একটি বসন্তের আগমন। বাংলা প্রকৃতিতে এসেছে ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম মাস। ‘আহা, আজি এ বসন্তে/ কত ফুল ফোটে/ কত বাঁশি বাজে/ কত পাখি গায়...।’

চারুকলার বকুলতলায়, তাই বসন্ত বরণের উৎসবে দালানের খোলস ছেড়ে বাসন্তী সাজে জড়ো হন নগরবাসী। সুরের সম্মোহনে বকুলতলায় ফাল্গুনের প্রথম প্রহরে মিলে মিশে একাকার প্রকৃতি আর মানুষের মুখরতা। এমন চিত্র সারাদেশেই। বাংলা প্রকৃতি এখন স্নিগ্ধময়ী-বাসন্তী। শীতের জরাগ্রস্থতা কাটিয়ে নতুন পাতায় ঋদ্ধ হয়ে উঠছে রিক্ত বৃক্ষাদি। বসন্তকে ঘিরে বাংলার জনপদে উৎসবের জোয়ার বয়ে যায়। লোক-কারুশিল্প পণ্য ছাড়াও এসব মেলায় বাহারি পসরা বসে।

আজ ‘পহেলা ফাল্গুন’ আর আগামীকাল বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। এই দু'টি দিনকে ঘিরেই সারাদেশের ফুলের দোকানগুলোতে বিক্রি ধুম পড়ে। বিশেষ করে রাজধানীর সর্ববৃহৎ ফুলের বাজার শাহবাগ মোড়ের ফুলের দোকানগুলোতে ফুল বিক্রির পরিমাণ অনেকগুণ বেড়ে যায়। পহেলা ফাল্গুন ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে ফুলের দোকানে ফুলের তোড়া তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে ফুল-শ্রমিকেরা। ফুল সাজানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে দোকানীরাও। এই দুই দিনে ফুলের বিক্রির হার অনেক বেড়ে যায় বহুগুণ। আজ শাহবাগ মোড়ে ফুলের দোকানগুলোতে ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে  সংশ্লিষ্ট দোকানী ও কর্মচারীদের। 

কয়েক বছর ধরে ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারিকে ফুল বাণিজ্যের সবচেয়ে বড় সুযোগ হিসেবে ধরে নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি ২১ ফেব্রুয়ারি রয়েছে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। পহেলা ফাল্গুনে খেপায় তাজা ফুল গুঁজেনি এমন তরুণী খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। আবার বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে প্রিয়জনকে ফুলেল ভালোবাসায় ছুঁয়ে দিতে মরিয়া হয়ে ওঠে সবাই। তাই এ দু’দিনে ফুল বিক্রির হার বছরের যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। ফলে বিশেষ এই দিবস পালনে ফুল হয়ে উঠেছে প্রধান আকর্ষণ। শুধু রাজধানীতে নয়, এই তিনটি দিবসে ফুলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে দেশজুড়ে। বসন্তের প্রথম দিন, ভালোবাসা দিবস এবং মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ফুলের সর্বাধিক চাহিদা থাকে। একই মাসে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে বড় তিনটি দিবস হওয়ায় ব্যবসায়ীরাও বিশাল প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন। এ দু’দিনে কয়েক কোটি টাকার ফুল বাণিজ্য হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

রাজধানীর শাহবাগ, ফার্মগেট ও আগারগাঁওয়ে অবস্থিত ফুলের পাইকারি মার্কেট থেকে সারা দেশের খুচরা বিক্রেতারা ফুল কিনে থাকেন। রাজধানীর এসব বাজারে খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার ও শনিবার বিক্রি অন্যদিনের চেয়ে অনেক বেশি হয়েছে। প্রতিদিন শুধু রাজধানীর পাইকারি বাজারে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকার ফুল কেনাবেচা হয়। তাই অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বেশি ব্যবসা করার পরিকল্পনা নিয়ে পসরা সাজিয়েছেন ফুল ব্যবসায়ীরা।  রাজধানীর সবচেয়ে বড় ফুলের বাজার শাহবাগে। এখানে রয়েছে ১২০টি ফুলের দোকান। খুচরা রয়েছে আরও শ’খানেক। অনেকের কাছে ফুলের একমাত্র প্রাপ্তিস্থান হিসেবে শাহবাগই পরিচিত। এছাড়া শহরের কেন্দ্রবিন্দু ও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার পাশে হওয়ায় শাহবাগে সংস্কৃতিমনাদের আনাগোনা বেশি থাকে, যারা ফুলের উল্লেখযোগ্য ক্রেতা। তবে ফেব্রুয়ারিতে বিক্রি অন্য যে কোনো মাসের চেয়ে ভালো। দামও একটু বেশি থাকে।

আজ পাইকারি বাজারে প্রতিটি দেশি গোলাপের দাম ১২ থেকে ১৫ টাকা, জারবেরা ১৫ থেকে ২০ টাকা, গ্লাডিওলাস ৮ থেকে ১৫ টাকা ও রজনীগন্ধা ৬-১০ টাকা দরে বেচাকেনা হয়েছে। এছাড়া জুঁই বেলী মালা ৩০ টাকা, গাঁদা ফুলের মালা ৪০ টাকা এবং  ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এক হাজার গাঁদা ফুল ঝাড়। এছাড়া লিলি ১৫০ টাকা, থাই-চায়না ও ইন্ডিয়ান গোলাপ ৬০ থেকে ১০০ টাকা।  অর্কিড ৬০ টাকা, কিসিমসিমা মিম ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, জারবেরা ২৫ টাকা, গেলোডিয়াস ২৫ টাকা, ক্যালনডুলা ১০ টাকা, জিপসি ৩০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও কানডিশন, লিমু, রজনীগন্ধ্যা, চেরিগেণ্ডা, ওয়েসস্টার, দেশি- বিদেশি নানান ফুল বিক্রি হচ্ছে। 

এসব ফুলের বেশির ভাগই আসে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী । দেখতে দেখতে যশোরের গদখালী হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের ফুলের রাজধানী। কেননা, দেশে ফুলের মোট চাহিদার প্রায় ৭০ ভাগ গদখালী থেকে সরবরাহ করা হয়। এর বাইরে রফতানি করা হয় সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়ায়। যে চাষিরা একদিন জমিতে ধান-পাটের চাষ করতেন, অধিক লাভের আশায় এখন তারা করছেন বাণিজ্যিক ফুলের চাষ। বর্তমানে ফুলের ভরা মৌসুম। 

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ফুলার সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ইমামুল হোসেন নিউজজি২৪ডটকমকে বলেন, ‘বসন্ত ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে ৬০ কোটি টাকার ফুল বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪০ লাখ গোলাপের চাহিদা আছে। কিন্তু দেশে এত গোলাপ উৎপাদন হয় না। বেশির ভাগই বিদেশ থেকে আনতে হয়। তাই গোলাপের দাম অনেক বেশি পড়ে। আমাদেরকেও বেশি দামে বিক্রি করতে হয়।’ 

যশোর, চুয়াডাঙ্গা, সাভার, নারায়ণগঞ্জ ও দেশের বাইরে চায়না, ভারত, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড থেকে ফুল আমদানি করা হয়ে থাকে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

নিউজজি/এসএফ

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

copyright © 2016 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers