বুধবার, ২৪ জানুয়ারি ২০১৮, , ৬ জুমাদিউল আউয়াল ১৪৩৯

দেশ
  >
জনপদ

তীব্র শৈতপ্রবাহ ও শীতে শরীয়তপুরের জনজীবন স্থবির

শরীয়তপুর প্রতিনিধি ১২ জানুয়ারি , ২০১৮, ১৩:১২:৩৪

  • ছবি : নিউজজি

শরীয়তপুর: সারা দেশ সহ বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে হঠাৎ গত কয়েকদিনের শৈতপ্রবাহও শীতের প্রভাব পরেছে শরীয়তপুর জেলা সদর সহ জেলার অন্যান্য উপজেলা গুলোতে জন জীবন একেবারে স্থবির হয়ে পড়েছে। ঘন কুয়াশার সাথে তীব্র শীত কারনে বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে শিশু বৃদ্ধ সহ হতদরিদ্র মানুষ। দেখা মিলতে কষ্ট হয় সুর্যের মুখ তাও যেমন দেখা পাওয়া যায়।

বুধবার জেলার পালং উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে-রিক্সা-ভ্যান চালক সহ দিনমজুর, হতদরিদ্র ও ছিন্নমুল মানুষেরা তীব্র শীত ও শৈতপ্রবাহ থেকে একটু পরিত্রান পাওয়ার জন্য সকাল সন্ধ্যায় বাড়ী সহ বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে খরকুটা দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে একটু উত্তাপ পাওয়ার চেষ্টা করছেন। এদিকে হাট, বাজার সহ উপজেলার বিভিন্ন মোড়ে তীব্র শৈত প্রবাহের কারনে সন্ধ্যার পর মানুষের উপস্থিতি একেবারেই কমে গেছে।

গোসাইরহাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানাযায় বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় শীতের এই সময়টায় তাদের খুব কষ্ট হয়। তীব্র শীতের কারনে অনেকে সকালে কাজে যেতে পারে না। এবারে হঠাৎ করেই বেশ কয়েকদিন শৈতপ্রবাহের কারনে দিনমজুর সহ হতদরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষেরা বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।

আকস্মিক এই শৈতপ্রবাহএকটু উষ্ণতার খোঁজে উপজেলা বাসী তাই ছুটছে গরম কাপড় গুলোর দোকানে। অভিজাত বিপণি গুলোতে বিত্তবানরা ও মধ্যবিত্তরা ভিড় করলেও দিনমজুর সহ হতদরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষেরা ভিড় জমিয়েছেন ফুটপাতের দোকান গুলোতে।

তীব্র এই শীতের হাত থেকে রক্ষাপাবার জন্য বিভিন্ন উপজেলার দিনমজুর সহ হতদরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষেরা প্রশাসন সহ সমাজের বিত্তবান মানুষদের কাছে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহবান জানায়। তবে এবার সকল উপজেলায় গত দুই তিন দিন ধরে সরকারি তহবিল থেকে শীত বস্ত্র দেওয়া হচ্ছে।

ডামুড্যা উপজেলায় হঠাৎই গত কয়েকদিন রাত থেকে উত্তরের হীমেল হাওয়ার গতি বাড়তে থাকে সেই সঙ্গে বাড়তে থাকে শীতের তীব্রতা। চলতি মৌসুমে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে বেশ কয়েক দিন থেকে হঠাৎই শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় দরিদ্র প্রবীণ নারী-পুরুষ ও শিশুরা বেকায়দায়। আর হঠাৎ শীতের তীব্রতার কারণে অধিক ভোগান্তির শিকার হয়েছে অতি দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারের মানুষ বিশেষ করে প্রবীণ নারী-পুরুষ ও শিশুরা।

সরেজমিনে বৃহস্পতিবার নড়িয়া ও জাজিরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তাঘাটে মানুষের উপস্থিতি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম। হঠাৎ শীতের তীব্রতার কারণে বাজারের অর্ধেক দোকান-পাট বন্ধ। নিতান্তই প্রয়োজনে যারা বের হয়েছেন তাদের শীতে জড়োসড়ো হয়ে থাকতে দেখা গেছে।

ডামুড্যা উপজেলার সিড্যার চায়ের দোকানদার আবুল হোসেন জানান, নিতান্তই পেটের দায়ে তীব্র এই শীতের মধ্যে চায়ের দোকান খোলা।

চায়ের দোকানে কথা হয় ষাটোর্ধ বয়সের হানিফ বাঘা ও রমজান মীরের সাথে সঙ্গে। তারা জানান, শীত যত বেশীই হোক না কেন আমাদের মতো দরিদ্র পরিবারের প্রবীণদের ভাগ্যে জোটে পরিবারের অন্য সদস্যদের বাতিল করে দেওয়া পুরনো শীতবস্ত্র। সরকারিভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও প্রবীণদের জন্য শীতবস্ত্র বরাদ্দের বিষয়টি কেউ ভেবে দেখে না।

এদিকে হঠাৎ করে তীব্র শীত ও শৈতপ্রবাহ জেঁকে বসায় এলাকায় ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া সহ অন্যান্য রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল ও অন্যন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশু ও বৃদ্ধ মানুষ ডাইরিয়া সহ বিভিন্ন পেটে পিড়ায় ভর্তি রয়েছে।

এ ব্যাপারে ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডাঃ বদরুদ্দোজা জানান, হঠাৎ শীতের প্রকোপ বাড়লেও ডায়রিয়া, নিউমনিয়া সহ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এখনো হাসপাতালে তেমন বাড়েনি। তবে এতে ছোট ছোট সোনামণিদের অনেক সমস্যা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে গোসাহরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বে থাকা পঃপঃ কর্ম-কর্তা ডাঃ হাফিজুর রহমান জানান, গত বুধবার থেকে বেশি ঠান্ডা পরায় এ পর্যন্ত কয়েক শতাধীক পেটের পিড়ার রোগী এসেছে, এর মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধ মানুষই বেশি, যথা সম্ভব চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করছি কোন চিকিৎসক ছুটি পাচ্ছেনা এখন।

তীব্র ঠান্ডার কারনে যে যেখানে পারে সেখানেই আগুন জ্বেলে শীত নিবারনের চেষ্টা করছে। তাপ মাত্রা রেকর্ড করেছে শরীয়তপুর আবহাওয়া অফিস। তারা আরো জানায় আরো দু-তিন দিন এরকম ঠান্ডা থাকতে পারে।

জানা গেছে, ২০১১ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী শরীয়তপুর জেলায় প্রায় ১১,৫৫,৮২৪ মানুষের বাস। সে হিসাবে জেলায় ২ লাখেরও বেশি প্রবীণ মানুষের বাস। এ সকল প্রবীণরা পরিবার ও সমাজে নানা বঞ্চনার শিকার। প্রতি বছর শীত মৌসুমে সরকারি ও বেসরকারি ভাবে কিছু শীতবস্ত্র বিতরণ করা হলেও প্রবীণদের ভাগ্যে তা কমই জোটে।

এ বিষয়েও হেল্পএইজ ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রজেক্ট অফিসার আউটরীচ এভ্যাম্পেইন বেলায়েত হোসেন সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষকে প্রবীন হিসেবে সরকার ঘোষণা করেছেন। এদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষই দারিদ্র সীমার নিচে বসবাস করছে।

 

নিউজজি/এসএম

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

copyright © 2016 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers