মঙ্গলবার, ২৩ জানুয়ারি ২০১৮, , ৫ জুমাদিউল আউয়াল ১৪৩৯

দেশ

সন্তানের চিকিৎসা করাতে গিয়ে চাকরি হারাতে বসেছে মা

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি ১৪ জানুয়ারি, ২০১৮, ১৬:৫৯:৩৮

  • সন্তানের চিকিৎসা করাতে গিয়ে চাকরি হারাতে বসেছে মা

মুন্সিগঞ্জ: শ্রীনগর উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত সন্তানের চিকিৎসা করাতে গিয়ে চাকুরী হারাতে বসেছেন এক স্কুল শিক্ষিকা।

উপজেলার স্যার জেসি বোস ইনষ্টিটিউশন ও কলেজের শিক্ষিকা হাছিনা আক্তার সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ছেলে হাসিবুল হাসানকে নিয়ে গত বছরের প্রথম দিকে ভারতে যান। উন্নত চিকিৎসার জন্য সন্তানকে ভর্তি করান ভেলোরের ক্রিশ্চিয়ান মেডিক্যাল কলেজে। এজন্য তিনি কতৃপক্ষের কাছ থেকে ৭ দিনের ছুটি নেন।

দুর্ভাগ্যবশত চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্তানের শারীরীক অবস্থা আরো খারপ হয়ে পরে। সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে তিনি ছুটি বাড়ানোর জন্য স্কুল কতৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেন। শেষ অবধী চাকুরী বাচাঁতে অসুস্থ সন্তানকে নিয়েই ৩৬ দিনের মাথায় চলে আসেন দেশে।

পরদিনই যোগদেন নিজ কর্মস্থলে। সন্তানের চিকিৎসা করাতে গিয়ে আর্থিক অনটনের স্বীকার ঐ শিক্ষিকা মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পরেন। অসুস্থ হয়ে পরেন নিজেই। একা রণে আরো একবার ছুটি নেন তিনি। কিন্থু পুরো ছুটি না কাটিয়েই ফিরেন প্রিয় কর্মস্থলে। বিপদের সময় পাশে না দাড়িয়ে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ দুইবারই তার বেতন কর্তন করেন।

গত ১৫ আগষ্ট শোক দিবসের অনুষ্ঠানে আসতে কিছু সময় দেরি হলে অধ্যক্ষ তাকে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে দেননি। এর কিছুক্ষন পর অফিস পিয়নের মাধ্যমে তার বাসায় শোকজ লেটার পাঠিয়ে দেন। হাছিনা আক্তার শোকজ লেটারের জবাব দিলেও অধ্যক্ষ তা গ্রহন করেননি।

পরবর্তীতে তাকে স্থায়ী ভাবে বহিস্কার করে স্কুলের সকল কাজ থেকে বিরত রাখা হয়। নিরুপায় হয়ে তিনি গত ১০ জানুয়ারী বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করার জন্য জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট আবেদন করেন।

হাছিনা আক্তার কান্না জড়িত কন্ঠে জানান, তিনি ২৯ বছর ধরে ওই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করছেন। এই দীর্ঘ সময়ে তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই। কিন্তু মূমূর্ষ সন্তানের মুখের দিকে তাকাতে গিয়ে দু-এক বার তাকে মৌখিক ভাবে ছুটি নিতে হয়েছে। কিন্তু কতৃপক্ষ কোন ছাড় না দিয়ে তার এই দুরাবস্থায় তাকে বহিষ্কার করেছে। বহিস্কারের ফলে তিনি সরকার প্রদত্ত সকল সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। 

এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ফরহাদ আজিজ জানান, সন্তানের অসুস্থাতার জন্য বেশ কয়েকবার তাকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এমনকি প্রথমবার উনি ৩৭ দিন পর যোগদান করেছেন। বিষয়টি নিয়ে আমাকেও জবাবদিহী করতে হবে। যথাযথ প্রক্রিয়া মেনেই তাকে বহিস্কার করে বোর্ডের অরবিট্রেশনের জন্য পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুহম্মদ জাহাঙ্গীর খান ও উপজেলা প্রাথমকি শিক্ষক সমিতির সভাপতি আমজাদ হোসেন সহ শিক্ষক নেতারা ইতিমধ্যে শিক্ষিকা হাছিনা আক্তারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তারা জানান, যেকোন সিদ্ধানের ক্ষেত্রে মানবিক দিক বিবেচনা করা উচিত। কোন স্বেচ্ছাচারিতার কারণে কারো সারা জীবনের অর্জন ম্লান হতে পারে না। হাছিনা আক্তারের ক্ষেত্রে কতৃপক্ষ মানবিক হবেন বলে তারা আশা ব্যক্ত করেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, তিনি লিখিত আবেদন পেয়েছেন। বিষয়টি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে তদন্তের জন্য দেওয়া হয়েছে। রিপোর্ট পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

নিউজজি/এসএম

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

copyright © 2016 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers